মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হমকি ও অশালীন ভাষায় গালাগালির পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বেসামরিক কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হলে চরম প্রতিশোধ নেবে তারা।
আজ সোমবার ভোর থেকেই ইসরায়েল, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর খবর দিয়েছে এএফপি।
হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২
ইসরায়েলের হাইফা শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি সেখানে আঘাত হানে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, এই দুই ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছিলেন। পরে সেখান থেকে তাদের নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বা নিখোঁজ থাকা আরও দুজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে খবরে জানানো হয়।
অকথ্য ভাষায় ট্রাম্পের হুমকি
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরান বন্ধ করে দেওয়ায় পর থেকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অশালীন ভাষায় ইরানকে গালিগালাজ করে এই প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় ইরানে ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে বলে হুমকি দেন তিনি।
এরপর এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে নতুন সময়সীমা বেধে দেন। এতে ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল) মধ্যে ইরানকে তার শর্ত মেনে নিতে হবে। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বিমান হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজ ডে… এর আগে এমন কিছু দেখা যায়নি!’
ইরানের ভেতরে ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের আহত এক ক্রুকে উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তেহরানের দাবি, তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া চারটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত দুটি বিমান ইরানিদের হাতে পড়া ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী নিজেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই এলাকায় বিধ্বস্ত বিমানের ছবি প্রকাশ করেছে।
যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানে হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত তাদের আকাশসীমায় আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্টর উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার হবে।

