‘টাইব্রেকারে গেলে বিশ্বকাপ আমরাই জিততাম’, দিবুকে নিয়ে এনজোর দাবি

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙেছিল আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে হারার ম্যাচে লাল কার্ডও দেখেছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। তিন মাসের বেশি সময় পর সেই ফাইনাল নিয়ে মুখ খুললেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। স্পেনকে যোগ্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকার করলেও তার বিশ্বাস, ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে ফল হতো অন্য রকম। কারণ, আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এনজোর দাবি, দিবু থাকায় টাইব্রেকারে জয়ের ব্যাপারে তারা ছিলেন পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।

সম্প্রতি আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুলের ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘লস এদুল’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন এনজো। সেখানে স্পেনের কাছে হারের কারণ, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা এবং দিবু মার্তিনেজের চোট নিয়েও কথা বলেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার।

গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তরেস। তার আগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন এনজো। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।

এনজোর বিশ্বাস, স্পেনের সেই গোলটি ঠেকিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকার পর্যন্ত নিতে পারলেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতত আর্জেন্টিনা। তিনি বলেন, ‘টাইব্রেকারে গেলে আমরাই জিততাম। অবশ্যই। আমাদের দলে দিবু ছিল। আমরা জানতাম, ওখানে সে কখনো ব্যর্থ হয় না।’

দিবুকে নিয়ে এনজোর এমন আত্মবিশ্বাসের কারণও আছে। আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত চারটি টাইব্রেকারে অংশ নিয়ে প্রতিটিতেই জিতেছেন এই গোলরক্ষক।

২০২১ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনটি শট ঠেকিয়ে প্রথমবার আলোচনায় আসেন মার্তিনেজ। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। ২০২৪ কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিপক্ষেও নায়ক হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপেও দিবুর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। তবে এনজো জানিয়েছেন, পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় টুর্নামেন্টে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। এনজো বলেন, ‘অবিশ্বাস্য ছিল ব্যাপারটা। ও নিজের আঙুলই ঠিকমতো নাড়াতে পারছিল না। ভাবা যায়! দিবু যা করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য। ও সত্যিই একটা অসাধারণ খেলোয়াড়।’

অবশ্য টাইব্রেকারে জয়ের ব্যাপারে এতটা আত্মবিশ্বাসী হলেও ফাইনালে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করেননি এনজো। বরং পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, সেদিন আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো খেলেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন।

তার ভাষায়, ‘স্পেন বলের দখল নিয়ন্ত্রণ করেছে। ওরাই যোগ্য বিজয়ী। ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। এটা মেনে নিতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে যে প্রতিপক্ষই ভালো ছিল।’

বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসব অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন এনজো, ‘আমার মা-বাবাও ফোন করে জানতে চাইছিলেন, কী হয়েছিল। আসলে কিছুই হয়নি। সব মিথ্যা, সব বানানো কথা। স্পেন আমাদের ন্যায্যভাবেই হারিয়েছে। প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানানো উচিত।’

তবে আর্জেন্টিনা যে নিজেদের সেরা অবস্থায় ফাইনাল খেলতে নামেনি, সেটিও জানিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। এনজোর দাবি, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে শারীরিকভাবে অনেকটাই নিঃশেষ হয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। বিশেষ করে কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হওয়ায় দলের ওপর ধকল বেড়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই দুটি ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলেছিলাম। কয়েকজনের শারীরিক সমস্যাও ছিল। আমার মনে হয়, দলের অর্ধেক খেলোয়াড়ই কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছিল। বিশ্বকাপের শেষ কয়েক সপ্তাহ খুবই ক্লান্তিকর ছিল। ফাইনালে পৌঁছানোর সময় আমাদের শারীরিক অবস্থা একেবারে সীমার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।’

তবে ক্লান্তি কিংবা চোটকে পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি এনজো, ‘আমরা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলাম। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম, সেটি পূরণ করতে পারিনি। আমরা বিশ্বকাপ জিততে চেয়েছিলাম। তবে দলের সবাই যে পরিশ্রম করেছে, সেটিকে আমি স্বীকৃতি দিই এবং সম্মান করি।’

Related Articles

Latest Posts