জামায়াতে ইসলামী কখনোই গুপ্ত সংগঠন ছিল না বলে দাবি করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা নিয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণই মূল্যায়ন করবে।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের (আইসিডিডিআরবি) সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণরায় বাস্তবায়ন এবং ওই সময়ের গণহত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে একটি মহল বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নই দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর একমাত্র উপায়।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই আন্দোলনের চেতনা থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে দলটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তা ভুলে গেছে। জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।
‘কেবল আইনের আংশিক সংশোধন নয়, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। এ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো একক সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না,’ বলেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘রিফর্ম আওয়ামী লীগ’ নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। ক্ষমতাসীনরা জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলে গিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, সত্য কথা বলার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। পাঁচ মাসেও কাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তই আওয়ামী লীগের পতনের সূচনা হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বাজি রাখতেও নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
সমাবেশ শেষে আইসিডিডিআরবি’র সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তেজগাঁওয়ের তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

