উত্তর জাপানে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে এবং সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে (০৭:৫৩ জিএমটি) উত্তর ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরের টোকিও পর্যন্ত বড় ভবন কেঁপে ওঠে।
আবহাওয়া সংস্থা জানায়, সুনামির প্রাথমিক ঢেউগুলো দ্রুত উত্তর উপকূলে পৌঁছাতে পারে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলে, ‘সুনামির ঢেউয়ে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। উপকূলীয় এলাকা ও নদীতীর থেকে দ্রুত সরে গিয়ে উঁচু জায়গা বা আশ্রয়কেন্দ্রে যান।’
তারা আরও বলে, ‘সুনামির ঢেউ বারবার আঘাত হানতে পারে। সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থান ছেড়ে যাবেন না।’
জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ফুটেজে ইওয়াতের কয়েকটি বন্দরের আশপাশে তাৎক্ষণিক বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, একটি সংকট ব্যবস্থাপনা দল গঠন করা হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দারা দয়া করে নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যান।’
হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এএফপি জানায়, জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তের ‘রিং অব ফায়ারের’ চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ এখানেই ঘটে।
বেশিরভাগ ভূমিকম্প তুলনামূলক হালকা হলেও, এর অবস্থান ও গভীরতার ওপর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের ৯ মাত্রার সমুদ্রতলের এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে।

