জনগণের রায়কে অস্বীকার করার নামই ফ্যাসিবাদের সূচনা: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটা রোগ। নির্দিষ্ট রোগী মারা গেলেও ফ্যাসিবাদ মারা গেছে—এটা বলা যায় না। এটি একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয়। আমরা সেই সংক্রমণ ইতোমধ্যে লক্ষ্য করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য, অপমান ও অস্বীকার করার নামই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা। আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না।’

আজ শুক্রবার কেরানীগঞ্জ ঢাকা জেলা জামায়াতের এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

সমাবেশে সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘পুরোনো ও ছেঁড়া জামা কেটে জোড়া লাগিয়ে পরানোর মতো ‘সংশোধন’ নয়, বরং মৌলিক ত্রুটিগুলো দূর করে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।’

‘একটা হচ্ছে—পুরোনো জামা ছিঁড়ে গেছে, ওটা কেটে জোড়া দিয়ে পরানো। আরেকটা হচ্ছে— গায়ের জামার ছেঁড়া অংশগুলো ফেলে দিয়ে নতুন জামা পরানো। আমরা ওই কাটা-ছেঁড়া জামা আর জাতির গায়ে পরাতে চাই না’, বলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সংবিধান শুক্রবার-শুক্রবার সংশোধন হয়েছে। এত সংশোধনের পথে ফ্যাসিবাদ আসলো কীভাবে?’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের যেসব ধারার কারণে ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, সেগুলো নির্বাসনে পাঠিয়ে সংস্কার করতে হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সংকট সৃষ্টির জন্য সরকারি দলকেই দায়ী। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেনি। আমরা দুইটা শপথ নিয়েছি, তারা একটা নিয়েছেন। তাদের দায়িত্ব ছিল সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের জন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অনুরোধ করা। তারা শুধু সংসদ অধিবেশনের জন্য অনুরোধ করেছেন, সংস্কার পরিষদের জন্য করেননি। তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন ও জনগণের সঙ্গে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। সরকার চাইলে সংসদের ভেতরেই সমাধান সম্ভব। আমরা চেয়েছিলাম সংসদের ভেতরে সমাধান হোক। আপনারা সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি। আমাদের ঠেলে জনগণের কাছে যেতে বাধ্য করেছেন।’

‘যে জনগণ খালি হাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করে পরিবর্তন এনেছিল, সেই জনগণ এখনো জীবিত, এখনো জাগ্রত’, যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কখনো সংবিধান বাতিলের কথা বলেননি। আমরা বলেছি—সংবিধানের সংস্কার চাই, কিন্তু কখনো বলিনি এটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাই। আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আবার জনগণের রায় খুন করার চেষ্টা করা হয় বা অধিকার হরণ করা হয়, তাহলে নতুন করে আন্দোলন শুরু হবে। আগেও কষ্ট করে লড়াই করেছি, তার ফল পেয়েছি। আগামীতেও এই লড়াই আবার শুরু হবে।’

Related Articles

Latest Posts