সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে ১৫ দিনের প্রস্তুতির জন্য দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ দলের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। তবে ভারতের গোয়ায় চলমান টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন বদলে যায় দৃশ্যপট। গত রোববার এই প্রতিযোগিতার সপ্তম আসরের অংশগ্রহণকারী সব দেশের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আফঈদার জায়গায় উপস্থিত হন মারিয়া মান্ডা।
এর অর্থ হলো, ১৫ মাস পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক বদল হয়েছে। এবারের সাফসহ আগামী দিনগুলোতে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মারিয়া।
বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ কৌশলগত কারণেই আফঈদাকে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আফঈদা বয়সে তরুণ এবং সে অনেক বেশি চাপ নিচ্ছিল। এখন তার নিজের খেলার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দলের মঙ্গলের কথা ভেবেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে সাবিনা খাতুন, মারিয়া, মনিকা চাকমা ও মাসুরা পারভিনের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়রা বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিনের অধিনায়ক সাবিনাসহ অন্য অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে তরুণ ডিফেন্ডার আফঈদাকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ।
এরপর থেকে আফঈদা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন। তার অধীনে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাহরাইন, মিয়ানমার ও তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচসহ মোট নয়টি ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা হেরে যায়। বাকি দুটি হয় ড্র।
সিনিয়র দলের পাশাপাশি আফঈদা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলকেও নেতৃত্ব দেন। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ও এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে তিনি অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু গত মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ১৯ বছর বয়সী আফঈদার বদলে অর্পিতা বিশ্বাসকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়। এটি মূলত সিনিয়র দলের অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের একটি আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল।
অধিনায়কত্বের এই সময়টাতে দলের পাশাপাশি আফঈদার নিজের পারফরম্যান্সও বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে। তিনি প্রায়ই প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের আটকাতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ফলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে।
মারিয়াকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার পর তার লড়াকু মনোভাব ও পরিশ্রমী মানসিকতার প্রশংসা করেছেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘মারিয়া মানসিকভাবে বেশ দৃঢ় এবং পুরো দল তাকে সম্মান করে। সে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করে দলকে নেতৃত্ব দেবে এবং আমি জানি, সে অন্যদের কাছ থেকেও সম্মান আদায় করে নিতে পারবে।’
মারিয়া এর আগে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ ও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলকে নেতৃত্ব দিলেও কখনোই সিনিয়র দলের অধিনায়ক ছিলেন না। তবে একসময় তিনি সাবিনার সহকারী (সহ-অধিনায়ক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

