চাঁদপুরে ওসির বিরুদ্ধে খাস জমির ঘেরের মাছ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ

চাঁদপুরে মেঘনা নদীর চরে সরকারি খাস জমির ঘেরের মাছ বিক্রি নিয়ে ওই জমির রিসিভার হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জেলার হাইমচর উপজেলার ৪ নম্বর নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে মেঘনা নদীর পশ্চিমের ওই খাস জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ও তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম টিপু ওই চরের প্রায় ৪৮ দশমিক ৫২৫ একর জমি ২০১৯ সালে নিজের দখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নামে ওই এলাকার নামকরণ হয় ‘টিপু নগর’।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আদালতের নির্দেশে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে ওই জমির রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে হাইমচর থানার সাবেক ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান গত ১৫ আগস্ট ওই জমির মধ্যে থাকা ঘের থেকে লাখ টাকার ওপরে মাছ বিক্রি করেন বলে অভিযোগ তোলেন নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মনির সিকদার।

তিনি অভিযোগ করেন, এই মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান মাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে জানান, গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজন টিপু নগরের মাছের ঘের থেকে মাছ এবং বাগান থেকে ফল-ফসল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘এজন্য এখানে কী পরিমাণ মাছ আছে দেখতে আমরা জাল ফেলি। পরে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। অর্জিত অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

তবে গত ২৩ আগস্ট তিনি হাইমচর থানা থেকে বদলি হয়ে যান।

আজ মঙ্গলবার থানার নতুন ওসি মো. শাহ আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি নতুন এসেছি।’

অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে।  

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমরা গত ১৫ আগস্ট ওসির নির্দেশে টিপু নগর থেকে যে মাছ ধরেছি, সেগুলো পাশের জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।’

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে গত ২৩ আগস্ট যোগদান করেন মো. নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি কোনো কিছু বিক্রি করা হলে নিলামের মাধ্যমেই করতে হয়। কিন্তু তারা (থানা পুলিশ) কোনো নিলাম আয়োজন করেনি বা আমাদেরকেও জানায়নি।’

‘তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে আমরা সরকারি নিয়মে ব্যবস্থা নেব,’ বলেন ইউএনও।

Related Articles

Latest Posts