গ্যাস সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতারা পাশের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছে: বিকেএমইএ

দেশে চলমান গ্যাসের সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না পাওয়ার শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা পাশের দেশগুলোর আমদানিকারদের দিকে ঝুঁকছে বলে বলে মনে করছে নিট পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গ্যাস সংকটে শিল্প কারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত একমাসে অন্তত ৪০ শতাংশ রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সময়মতো পণ্য পাবেন না শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারাও পাশের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে সরকারের কাছে কিছু দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন তিনি।

এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ১২ মাসের কিস্তির ব্যবস্থা, বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, গণপরিবহন ছাড়া অন্য যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান তিনি।

একইসঙ্গে এ পরিস্থিতিতে কারখানা মালিকরা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তাদের ‘ক্ল্যাসিফাইড’ হিসেবে চিহ্নিত না করারও দাবি জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হবে, ততদিন পর্যন্ত এই বিষয়ে যেন ব্যাংক বিরত থাকে। অন্তত ৬ মাসের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাই।’

সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাসের সংকটের ব্যাপারে নিয়মিত ব্রিফিং চান তিনি।

হাতেম বলেন, ‘আমরা আসলে অন্ধকারে আছি। এই সংকট কবে সমাধান হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা পাচ্ছি না। এ কারণে বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়াচ্ছে।’

বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, গ্যাস সংকট বহুদিনের হলেও গত ২০ জুলাই থেকে তা তীব্র হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গ্যাসের চাপ শূন্য হয়ে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন বন্ধ। এমন অবস্থায় অন্তত ৩০০ কারখানা রয়েছে। চলতি মাসে এই সংকটের সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।’

‘ফলে বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ শিপমেন্ট করতে পারছি না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। অর্ডারগুলো পাশের দেশগুলোতে শিফট হয়ে যাবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী সিজনের বেশকিছু রপ্তানি আদেশ ক্রেতারা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে শিল্পখাত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল থাকবে নাকি অন্য কোনো জ্বালানির ব্যাপারে যাব কি না, সেই দিক-নির্দেশনা তারাই দেবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমল পোদ্দার, সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেলও উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Latest Posts