গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর জেরে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

সহকর্মীদের অভিযোগ, লিজা আক্তার (৩৫) নামে ওই শ্রমিক অসুস্থ ছিলেন। ছুটি না পেয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। পরে কর্মস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লিজা পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। তিনি শ্রীপুর উপজেলার আনসার রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নামের ওই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, অসুস্থতার কারণে লিজা এর আগে ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষে গত ২৪ জুন রাত ১০টায় নাইট শিফটে কাজে যোগ দেন। কাজের মধ্যেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং ছুটির আবেদন করেন। তবে ছুটি না পেয়ে তাকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

পুলিশ জানায়, রাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ আল হেরা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে সেখান থেকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভোর ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে টেপিরবাড়ি এলাকায় কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে পুলিশের মধ্যস্থতায় অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, একজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় অন্য শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, লিজা আক্তারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মালিক আব্দুস সালামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

Related Articles

Latest Posts