খর্বশক্তির শ্রীলঙ্কার কাছে বড় হার, ব্রোঞ্জও পেল না বাংলাদেশ

নিয়মিত তারকাদের বেশিরভাগকে বিশ্রাম দিয়ে এশিয়ান গেমসে দল পাঠানো শ্রীলঙ্কার কাছে ধরাশায়ী হলো বাংলাদেশ। হতাশাজনক বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে ঘটল বিপর্যয়। রান তাড়ায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক লিটন দাস শূন্য রানে আউট হলেন। সেই ধাক্কা সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে প্রথমবারের মতো কোনো পদক ছাড়াই এশিয়ান গেমস থেকে দেশে ফিরছে তারা।

শনিবার সকালে জাপানের নিশিনে ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাট করে খর্বশক্তির লঙ্কানরা তোলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান। জবাবে প্রথম সারির দল নিয়েও টাইগাররা ১৫ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় মাত্র ১০২ রানে।

২০১০ সালে প্রথমবার ক্রিকেট ইভেন্ট আয়োজিত হয়েছিল এশিয়ান গেমসে। সেবার সোনার পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। চার বছর পরের আসরে তারা পেয়েছিল ব্রোঞ্জ। এরপর ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ইভেন্ট ছিল না। সবশেষ ২০২৩ সালের আসরেও ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার তাদের হয়েছে ভরাডুবি। পাকিস্তানের কাছে হেরে সোনার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর পদক জয়ের শেষ আশাও ভেস্তে গেছে শ্রীলঙ্কার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণে।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা হয় ভীষণ বাজে। প্রথম ওভারে সাইফ ও দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ সাজঘরে ফিরে যান। তখনও স্কোরবোর্ডে কোনো রান জমা হয়নি! তিনে নামা অধিনায়ক লিটন পরের ওভারে হাঁটেন একই পথে। প্রথম বলেই আউট হয়ে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান তিনি। বাংলাদেশের জার্সিতে দুঃসময় পার করতে থাকা লিটনের এটি সবশেষ পাঁচ ইনিংসে চতুর্থ ডাক।

৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর বিপর্যয় আর সামলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। শেষদিকে নাসুম আহমেদ প্রতিরোধ না গড়লে একশর নিচেই গুটিয়ে যেতে পারত তারা। নয়ে নামা নাসুম সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন ২৮ বল খেলে।

এছাড়া, পারভেজ হোসেন ইমন ২৬ বলে ২০ ও ইয়াসির আলী ১৬ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন। ব্যাটাররা আসা-যাওয়ার মিছিলে থাকায় গড়ে ওঠেনি কোনো জুটি। ফলে ১৭.৩ ওভারেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন চারজন।

এর আগে একাদশ ওভারে মাত্র ৫৪ রানে লঙ্কানদের ৫ উইকেট ফেলে দিয়েছিল টাইগাররা। তবে সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি তারা। পাল্টা আক্রমণে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগে ও থারিন্দু রত্নায়েকে গড়েন ৪৬ বলে ৯৩ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি। রত্নায়েকে সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় খেলেন ৩২ বলে ৬৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। আরাচ্চিগের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৩৩ রান।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের তৈরি করা চাপ আলগা করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতোই তিনি ছিলেন খরুচে ও এলোমেলো। এই বাঁহাতি পেসার যখন বোলিংয়ে যান, তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৬৫ রান। ওই ওভারে ২৫ রান দিয়ে ফেলেন মোস্তাফিজ। ওভারটি শেষ করতে ওয়াইড-নোসহ মোট ১১টি ডেলিভারি দরকার পড়ে তার!

১৪ থেকে ১৮— এই পাঁচ ওভারে ৮৩ রান তুলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। মোস্তাফিজ শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট পেলেও তিন ওভারে দেন ৪৩ রান। ১ উইকেট নেওয়া লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের চার ওভারে আসে ৪৬ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে সুযোগ না পাওয়া রহস্য স্পিনার আলিস ইসলাম আঁটসাট বোলিংয়ে চার ওভারে ১৮ রানে শিকার করেন ১ উইকেট।

Related Articles

Latest Posts