কুলাউড়ায় খাসিয়া-গারোদের ৮ হাজার পান-সুপারি গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নার্সারি পানপুঞ্জিতে প্রায় ৮ হাজারের বেশি পান ও সুপারি গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।

গত বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না।

তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। বিস্তারিত জানানো হবে।’

পুঞ্জির প্রধান জনি পতাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকেই নার্সারি পানপুঞ্জিতে খাসিয়া ও গারো জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৬৫টি পরিবার বসবাস করে আসছে। আমরা সহজ-সরল মানুষ। পান চাষ করেই আমাদের সংসার চলে। বছরের পর বছর পরিচর্যার পর গাছগুলো ফলন দিতে শুরু করে।’

পাইলা পতাম বলেন, ‘গাছগুলোর ফলন দেওয়ার সময় হয়েছিল। কিন্তু একরাতেই সব শেষ হয়ে গেল। ঋণ কীভাবে শোধ করব, জানি না।’

খাসিয়া ও গারো জাতিগোষ্ঠীর স্থানীয় সংগঠন কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে দুর্বৃত্তরা সাহেব টিলা পুঞ্জিতে হামলা চালিয়ে পানগাছ কেটে ফেলেছিল। এরপর গত বুধবার রাতে নার্সারি পুঞ্জিতে ৮ হাজারের বেশি পান ও সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এসব পুঞ্জির বাসিন্দারা জীবিকার জন্য মূলত পান চাষের ওপর নির্ভরশীল। এভাবে পানগাছ ধ্বংস হতে থাকলে পুঞ্জির বাসিন্দারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন।’

মৌলভীবাজার জজ কোর্টের আইনজীবী ও ওই এলাকার বাসিন্দা সুবিমল লিন্ডকিরি বলেন, ‘আমরা প্রকৃতির সন্তান, কিন্তু আমাদের ওপর হয়রানির কোনো শেষ নেই। আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা কে দেবে? কেন আদিবাসীদের জীবিকার ওপর বারবার হামলা চালানো হবে? অপরাধীদের বিচার হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে।’

যোগাযোগ করা হলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে পানগাছ কেটে ফেলার বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। তবে সবশেষ ঘটনা সম্পর্কে আমাকে জানানো হয়েছে। নার্সারি পুঞ্জিতে সুপারি ও পানগাছ কেটে ফেলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

Related Articles

Latest Posts