তিন ম্যাচে টানা জয়, লিগে নিখুঁত শুরু। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল রিয়াল মাদ্রিদের। কিন্তু বেতিসের বিপক্ষে এমন এক ম্যাচে গিয়ে থামল সেই জয়যাত্রা, যেখানে ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আধিপত্য ছিল তাদেরই। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি মরিনহোর দল। শেষ পর্যন্ত ত্রয় প্যারতের গোলে উল্টো হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিয়ালকে।
হারের পরও রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোর কণ্ঠে ছিল না খেলোয়াড়দের প্রতি কোনো অভিযোগ। বরং ম্যাচের ফলই যেন তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকছে। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, কীভাবে তার দল হেরে গেল, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না।
‘আমরা কীভাবে হারলাম, আমি জানি না। কারণ দল হিসেবে আমরা খুব ভালো খেলেছি। দল দুর্দান্ত একটি ম্যাচ খেলেছে। কখনো কখনো আপনি হেরে যান, কিন্তু কেন হারলেন, সেটার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না,’ বলেন মরিনহো।
ম্যাচে রিয়ালের দাপট ছিল স্পষ্ট। আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে তারা। প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এমবাপেকেও দুবার গোলবঞ্চিত করেন বেতিসের ডিফেন্ডাররা। পরে ফরাসি ফরোয়ার্ডের আরেকটি প্রচেষ্টা লাগে ক্রসবারে। শেষ পর্যন্ত ৯৩ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টিও রিয়ালকে সমতায় ফেরাতে পারেনি। বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস এমবাপের শট ঠেকিয়ে দেন।
তবে পেনাল্টি মিসের জন্য এমবাপেকে একটুও কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি মরিনহো, ‘পেনাল্টির ব্যাপারে বলতে হয়, আমাদের মধ্যে যেই পেনাল্টি নিতে দাঁড়ায়, আমরা সবাই তার পাশে থাকি।’
গোল করতে না পারলেও নিজের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে রাজি নন মরিনহো, ‘আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে অভিযোগ করার মতো কিছুই নেই। সম্ভবত আমাদেরই জেতা উচিত ছিল। কিন্তু ম্যাচ জয়ের যোগ্যতা দেখালেই তো পয়েন্ট পাওয়া যায় না।’
মরিনহো অবশ্য বেতিসের কৌশলী ফুটবলের প্রশংসাও করেছেন। তার মতে, ঘরের মাঠের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে বেতিসের খেলোয়াড়েরা ম্যাচের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে কিছু বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন।
‘বেতিসের খেলোয়াড়েরা রিয়ালের খেলোয়াড়দের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে বেশি কৌশলী। রিয়ালের খেলোয়াড়েরা খুবই সৎভাবে খেলেছে। আর অসাধারণ দর্শকদের সমর্থন নিয়ে বেতিস এসব ছোটখাটো সুবিধা আদায় করে নিতে পেরেছে,’ বলেন পর্তুগিজ কোচ।
বেতিসের বিপক্ষে হারের ফলে চার ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট রইল ৯-এ। সমান পয়েন্ট বেতিসেরও। অন্যদিকে, রোববার ভ্যালেন্সিয়াকে হারাতে পারলে বার্সেলোনা রিয়ালের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে উঠে যাবে।
লিগের প্রথম ধাক্কা সামলে এখন অবশ্য রিয়ালের সামনে নতুন পরীক্ষা। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের মুখোমুখি হবে তারা।

