বগুড়া সদরে রাস্তার পাশে অপেক্ষারত শ্রমিকদের বাসচাপার ঘটনায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন দিনমজুর ও দুজন ছিলেন কৃষক। কাজের সন্ধানে তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার সময় বগুড়া সদর উপজেলায় বগুড়া-নওগাঁয় আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটির রুট পারমিট ছিল না বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটি এরুলিয়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে ব্রেক করে। এতে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং ঘুরে গিয়ে রাস্তায় অপেক্ষরত দিনমজুরদের চাপা দেয়।’
এতে ঘটনাস্থলে ৩ জন নিহত হন বলে তিনি জানান।
স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে জানান শহিদুল ইসলাম।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও ৩ জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা যান।
নিহতরা হলেন—দিনাজপুরের পার্বতীপুরের তাজিমুল (৪৭), আনারুল (৫৫), মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাঈদ (৪৫), নূর আলম (৪৫), জয়পুরহাটের পাঁচবিবির আমিরুল (৪০) ও বগুড়ার কাহালুর নূর মোহাম্মদ (৭৬)।
দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১৯ শ্রমিক সেখানে ভর্তি আছেন।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ মোর্শেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৪ জনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। দুজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার সময় কাজের জন্য সেখানে থাকা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষিশ্রমিক মো. বোরহান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভোরে আমরা প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজের খোঁজে সেখানে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ করে দ্রুতগতির একটি বাস রাস্তার ডানপাশে আমাদের উপর উঠে যায়। আমি দৌড় দিয়ে বেঁচে যাই। কিন্তু আমার গ্রামের একজন নিহত হয়েছেন। আর ৬ জন আহত হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি।’
যোগাযোগ করা হলে বগুড়া সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্থানীয়রা দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তা অবরোধ করেছেন। তাদের দাবি একাধিক স্পিডব্রেকার। সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গেছেন। তিনি বলেছেন আজই সেখানে স্পিডব্রেকার দেওয়া হবে।’
রুট পারমিট ছিল না বাসটির
শ্রমিকদের চাপা দেওয়া শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটির রুট পারমিট ছিল না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বগুড়া কার্যালয়।
বগুড়া বিআরটিএ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বাসটির ফিটনেস ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও, গত দেড় বছর ধরে রুট পারমিট ছিল না। পারমিটের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালে ২ জানুয়ারি। আর ট্যাক্স-টোকেনের মেয়াদ শেষ হয় এ বছরের ২৬ জুন।
তিনি বলেন, ‘নতুন করে রুট পারমিটের জন্য কোনো টাকা জমা দেওয়া হয়নি।’
ঘটনার দায় নির্ধারণে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্ৰতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘বাসটির রুট পারমিট নেই আমরা দেখেছি। কোন ফাঁক-ফোকর দিয়ে হয়তো বাসটি এতদিন চলছিল। তদন্ত শেষে আমরা শাস্তির ব্যবস্থা করব,’ বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসাব্যয় সরকার বহন করবে।

