কাঁদতে কাঁদতে স্কালোনি বললেন, ‘কী দারুণ একঝাঁক খেলোয়াড়’

৭৯তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকল আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। কিন্তু অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের স্মরণীয় গল্প লিখে নির্ধারিত সময়েই জিতে গেল তারা! ম্যাচের পর অঝোরে কাঁদতে দেখা গেল দলটির মহাতারকা লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনিকে।

মঙ্গলবার রাতে আটলান্টায় শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। তাদের গোলগুলো আসে মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে! ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর মেসি ফেরান সমতা। আর এঞ্জো ফার্নান্দেজের গোলে নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টিকে থাকা।

ম্যাচের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বেশি কিছু বলতে পারলেন না। দ্রুত সরে যাওয়ার আগে অবশ্য শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসালেন তিনি, ‘আমি এমনকি মাথা তুলে তাকাতেও পারছি না, আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। কী দারুণ একঝাঁক খেলোয়াড়! আমাকে এখন যেতে হবে, মাফ করবেন’। 

বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই বা এর বেশি গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে এই প্রথম জয়ের স্বাদ নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতির সামনে পড়ে আগের ১৩ বারের প্রতিটিতে হেরেছিল তারা।

খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার কণ্ঠেও একই সুর শোনা গেল, ‘আমরা এখন অবিশ্বাস্য রকমের স্বস্তি বোধ করছি। আমরা এই ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের অনুপ্রাণিত করে, যারা কখনো ক্লান্ত হয় না, যারা সব সময় আরও বেশি কিছুর জন্য চেষ্টা করে এবং যারা এই ধরনের কাজ করতে সক্ষম’. 

তিনি যোগ করেন, আলবিসেলেস্তেদের কোচিং প্যানেল শঙ্কায় পড়ে গেলেও শেষ বাঁশির আগে মেসি-এঞ্জোরা হাল ছাড়তে রাজী ছিলেন না, ‘আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম, কিন্তু তারা নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে, যদি আমাদের বিদায় নিতেই হয়, তবে আমরা মাথা উঁচু করেই বিদায় নেব। এটি এই অবিশ্বাস্য দলটির আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত’। 

Related Articles

Latest Posts