কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জীবিতদের উদ্ধার অভিযান ‘শেষ পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে।
ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে এবং ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৫০০ ব্যক্তি নিখোঁজ আছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী।
উদ্ধারকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রে আছে পেরেইরা শহরের একটি ধসে পড়া বেকারি।
তাদের ধারণা, সোমবারের ভূমিকম্পের পর থেকে সেখানে আটকে থাকা এক বিক্রেতা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত থাকতে পারেন।
কম্পন শনাক্ত করতে পারে এমন সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাবলো লোয়াইজার জীবিত থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। এ খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা ধ্বংসস্তূপের বাইরে জড়ো হয়েছেন।
স্বজনেরা জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রথমে দুবার, পরে তিনবার শব্দ করতে বললে আটকে থাকা ওই ব্যক্তি সাড়া দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া লোকজন করতালি দেন।
কালি শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের বুধবার বলেন, ‘আমরা উদ্ধার অভিযানের শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করছি। এর মানে এই নয় যে এরপর আর জীবিত কাউকে পাওয়া যাবে না। তবে তখন তা আরও কঠিন হবে।’
কালি ও পেরেইরায় জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তৃতীয় রাতেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
খালি হাতে, ক্রেন ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে তারা বিরতিহীনভাবে কাজ করছেন। বিশ্রামের জন্য নয়, বরং জীবিত মানুষের কোনো সংকেত শোনার জন্য তারা থামছেন।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী জোহানা সানচেজ এএফপিকে বলেন, ‘প্রতি আধা ঘণ্টা পর আমরা সবাইকে নীরব থাকতে বলি, যাতে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, তা বোঝা যায়।’
‘এখন পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত এবং তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
কলম্বিয়ার সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট এই দুর্যোগকে ‘অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’ আখ্যা দিয়েছেন এবং তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।
এক বিবৃতিতে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমরা যা প্রয়োজন, তা-ই করব।’
তিনি ‘একটি দেশ ও সমাজ হিসেবে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর’ অঙ্গীকার করেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১১ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
অনেকে ইতোমধ্যে টানা কয়েক রাত ঘরের বাইরে কাটিয়েছেন।
কারও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার কেউ পরাঘাতের আশঙ্কায় ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
কলম্বিয়ানরা দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
রক্তদাতা ফেরনে কাবরেরা বলেন, ‘এটি আপনার সম্প্রদায়, শহর ও দেশকে সাহায্য করার ইচ্ছার বিষয়।’

