এবারের বিশ্বকাপে এত আত্মঘাতী গোল কেন?

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি কোনো মার্কিন স্ট্রাইকারের পা থেকে আসেনি, বরং এসেছে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পা থেকে। ম্যাচের ১১ মিনিটে জোরালো নিচু শটটি স্ট্রাইকারের পায়ে যাওয়া থেকে আটকাতে চেয়েছিলেন অজি ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেস। কিন্তু বলে এতই গতি ছিল, নিজের পা সময়মতো সরাতে পারেননি বার্গেস। ফলাফল, নিজের জালেই ঠেলে দেন বল। 

এবারের বিশ্বকাপে যেন প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে এমন দৃশ্য। হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপে কিংবা আর্লিং হালান্ডরা নন, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ‘টপ স্কোরার’ আত্মঘাতী গোল! গ্রুপ পর্বের প্রথম পর্বের ম্যাচ শেষ করে মাত্র দ্বিতীয় পর্বের খেলা চলমান, এতেই এখন পর্যন্ত ৭টি আত্মঘাতী গোল দেখে ফেলেছে এই বিশ্বকাপ। অথচ কাতারে পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে আত্মঘাতী গোল হয়েছিল মাত্র ২টি। 

তবে এবার এত আত্মঘাতী গোলের পেছনে কারণ কী? উত্তরটা লুকিয়ে আছে আধুনিক কোচদের অতি আক্রমণাত্মক ফুটবলের কৌশলে। এবারের টুর্নামেন্টে অনেক গোলের একটি ধারা লক্ষ্য করা গেছে- দুই ফ্ল্যাংক ধরে ক্ষিপ্র গতিতে উঠে আসছেন উইঙ্গাররা, এবং ডি-বক্সের ভেতরে জোরালো, কিন্তু নিচু বল ডেলিভারি করছেন।

কয়েক বছর আগেও উইঙ্গাররা সাধারণত দুই উইং থেকে আউট-সুইঙ্গিং হাওয়ায় ভাসানো বল বক্সে পাঠাতে বেশি পছন্দ করতেন। কিন্তু এবার সেই প্রবণতায় বেশ ভালো রকম বদল দেখা যাচ্ছে। হাওয়ায় বল দেয়ার পরিবর্তে তারা এখন গোলরক্ষকের সামনের ‘করিডোর অব আনসার্টেইনটি’তে বল বেশি পাঠাচ্ছেন। এতে করে ডিফেন্ডাররা পূর্ণ গতিতে এসে সেই বল ব্লক করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বলের অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই ডিফেন্ডারের শরীরে লেগে বল জালে ঢুকে যাচ্ছে। উইং থেকে যে দ্রুতগতিতে বল আসছে, ডিফেন্ডারের অসতর্কতায় শরীরে বলের সামান্য স্পর্শ হলেই গোলরক্ষকের বল ফেরানোর আর কোনো সুযোগ থাকছে না। 

ঠিক একই ভাবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও গোল খেতে হয়েছে মিশরকে, কানাডার বিপক্ষে আত্মঘাতী গোল করেছেন কাতারের মোহাম্মদ মানাই। এমনকি নরওয়ের বিপক্ষে ইরাকের তারকা স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইনও একই পদ্ধতিতে আত্মঘাতী গোল করেছেন! 

এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচেই আত্মঘাতী গোল ‘উপহার’ হিসেবে পেয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র। এত বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে কোনো দল পরপর দুই ম্যাচে এরকম উপহার পায়নি! 

বেশিরভাগ গোলের এই ধারা দেখে এগুলোকে স্রেফ আর দুর্ঘটনাবশত ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী গোল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং গোলগুলোকে কোচদের ট্যাকটিকাল পরিবর্তনের ফসল বলাই শ্রেয়। 

Related Articles

Latest Posts