এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ১০২৮ কোটি টাকা

চলতি বছরের এপ্রিল-জুনে ১ হাজার ২৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের। আর এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ হিসাববছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকটির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকায়।

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে ব্যাংকটি এ হিসাব নিশ্চিত করেছে। তথ্যানুযায়ী, মূলত বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া এবং খেলাপি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণেই ব্যাংকটি এই লোকসানের মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ৩৯ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল শূন্য দশমিক ২৪ টাকা। 

ব্যাংকটি জানিয়েছে, আমানতের ওপর মুনাফা পরিশোধ এবং খেলাপি বিনিয়োগ থেকে আয় কমে গেছে। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যাংকে রক্ষিত আমানত থেকেও আয় হ্রাস পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্পত্তির গুণগত মান বাড়ানো, বিনিয়োগ উদ্ধার জোরদার করা এবং আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির আশা, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আয় ও ইপিএস বাড়াতে সাহায্য করবে।

এদিকে চলতি হিসাববছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭ টাকা ৬৮ পয়সা। মূলত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আমানতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নগদ প্রবাহ কমেছে।

এদিকে খারাপ ফলাফলের খবরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ৩১ টাকায় নেমে এসেছে।

২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটির ৭৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দখলে রয়েছে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার। বাকি শেয়ার স্পন্সর, পরিচালক, সরকার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে।

Related Articles

Latest Posts