একদিনে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ ফেরা নিয়ে উদ্বেগ

মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের চার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মাদ্রাসা–ই–আলিয়া (আলিয়া মাদ্রাসা), রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এসব সংঘর্ষে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে তারা ক্যাম্পাসে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ আবারও ফিরে আসছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে অনেক ক্যাম্পাসে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ছোট একটি ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে আসি। প্রতিহিংসার রাজনীতির সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তাদের কেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কি এমন হওয়া উচিত?’

তিনি জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি করেন এই শিক্ষার্থী।

সংঘর্ষের সূত্রপাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে

সাম্প্রতিক সহিংসতার সূচনা হয় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর এটিই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সংঘর্ষের প্রথম ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে টানানো ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শীর্ষক ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ব্যানারটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির ছয় নেতার ছবি ছিল। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত শতাধিক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রনেতা ও সাংবাদিকও রয়েছেন। সংঘর্ষের রেশ পরে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ, জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফ এবং কয়েকজন সাংবাদিক।

আলিয়া মাদ্রাসায় হল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।

আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলী আহসান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সহিংসতা চাই না। আমরা পড়াশোনা করতে এসেছি, ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘর্ষ দেখতে নয়। বারবার সহিংসতার ঘটনায় আমাদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চাই।’

ঢাকা কলেজেও সংঘর্ষ

এদিকে ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

Related Articles

Latest Posts