ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক ‘বন্ধু’ আমিরাতের, সঙ্গে আরও ৭ মুসলিম দেশ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রশংসা করেছে মধ্যপ্রাচ্যে তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। একইসঙ্গে অন্য দেশগুলোকেও যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, তুরস্ক, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার যুক্তরাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।’

এর এক দিন আগে মঙ্গলবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এবং এসব বসতির সঙ্গে সব ধরনের লেনদেনের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

মিলিব্যান্ডের বক্তব্যের পরপরই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, তারা ‘ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে এবং বসতি ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে’ পদক্ষেপ নেবেন।

এরপর কানাডা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য বাণিজ্যের ওপর নিজ নিজ দেশে বিধিনিষেধ আরোপ করবে কিংবা ইউরোপীয় পর্যায়ে এমন ব্যবস্থা সমর্থন করবে। কয়েকটি দেশ এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলেও জানানো হয়।

এসব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, তারা আশা করেন, যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনারও আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে তারা ইসরায়েলের প্রতি বসতি স্থাপন কার্যক্রম এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া সব ব্যবস্থা প্রত্যাহারের আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলাদাভাবে বিবৃতিতে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনা ‘পূর্ণাঙ্গ ও অবিলম্বে’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়। তবে ইসরায়েল এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

বিবৃতির শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, ‘ন্যায্য, দীর্ঘস্থায়ী ও সামগ্রিক শান্তি অর্জনের একমাত্র কার্যকর পথ হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন এবং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।’

এদিকে মঙ্গলবার মিলিব্যান্ডের ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সেবা দেওয়া ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও রয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার আরও কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক গাজা সহায়তা কেন্দ্রে কর্মরত ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্রিটিশ কার্যক্রম বন্ধ করা রয়েছে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রায় প্রতিদিনই বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ বাড়তে থাকার মধ্যে যুক্তরাজ্য বসতিগুলোর সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিলিব্যান্ড বলেছেন, ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল বলে মনে করে এবং এর পেছনে ‘বসতি স্থাপনকারী সন্ত্রাসীরা’ জড়িত।

তবে এসব হামলায় জড়িত ইসরায়েলিদের গ্রেপ্তার খুবই বিরল। সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন, ইসরায়েল সরকার এসব সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, এমনকি উৎসাহিতও করছে।

Related Articles

Latest Posts