ফিফায় বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব ঘিরে সরগরম ফুটবল বিশ্ব। ইউরোপের উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ার এএফসি—তিন প্রভাবশালী সংস্থা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার চিন্তাভাবনা করছে। চারপাশ থেকে যখন পদত্যাগের তুমুল চাপ, ঠিক তখনই ইনফান্তিনোর বড় ঢাল হয়ে সামনে এলেন আফ্রিকান ফুটবলের কিংবদন্তি ও ক্যামেরুন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি স্যামুয়েল ইতো।
প্রস্তাবটি ছিল বিশাল অঙ্কের—প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগের সুযোগ। এতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকেই তাৎক্ষণিকভাবে ২ কোটি ডলার এবং পরবর্তী ১২ বছরে আরও ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার করে পাওয়ার কথা ছিল। তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেও ইনফান্তিনোকে ঘিরে তৈরি হওয়া তোপ থামেনি।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই পুরো ঘটনাকে ‘নির্বাচনি চক্রান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্যামুয়েল ইতো। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো কোনো ভুল করেছেন। সব ঘটনা ঘটছে সময়টার কারণে। সামনে ফিফা নির্বাচন আসছে এবং তিনি আবার দাঁড়াচ্ছেন। সে কারণেই এত কিছু তৈরি করা হয়েছে, এর বাইরে আর কিছুই নয়।’
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন কড়া ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ফুটবল ফিফার বিক্রি করার মতো কোনো সম্পত্তি নয়।’
কিন্তু ইতো সেই যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, এই অর্থ পেলে ফুটবলে ধনী ও দরিদ্র দেশের মধ্যকার বৈষম্য অনেকটাই কমে যেত।
কিলিয়ান এমবাপের উদাহরণ টেনে ইতো বলেন, ‘প্রস্তাবটি আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য দারুণ এক সুযোগ হতে পারত। সব ঠিকঠাক এগোলে আমরাও বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে পারতাম। আমরা চাই নতুন মেসি আর এমবাপ্পেদের দেখতে, তবে আমি দেখতে চাই এমবাপ্পে যেন ক্যামেরুনের হয়ে খেলেন। আমাদের এই অবিশ্বাস্য প্রতিভাগুলো যাতে অন্য দেশের হয়ে খেলতে বাধ্য না হয়, তার ভারসাম্য এনে দিত এই প্রকল্প।’
তবে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ শুধু আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে ফুটবলারদের ড্রেসিংরুম পর্যন্ত। ফিফার নিজস্ব খেলোয়াড়দের পরামর্শক দলের সদস্য ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকায়েল সিলভেস্ত্রে, ইংল্যান্ডের নারী ফুটবল দলের তারকা লুসি ব্রোঞ্জ এবং ফরাসি বিশ্বজয়ী তারকা ইমানুয়েল পেতিত একযোগে ফিফা নেতৃত্বের পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আমরা যে খেলাটিকে ভালোবাসি, তা নিজের মূল মূল্যবোধ থেকে ছিটকে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের তোয়াক্কা না করেই নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। ক্ষমতার মোহে বর্তমান নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থ আর ফুটবলের মঙ্গলের ভেদাভেদ হারিয়ে ফেলেছে। এখন আর চুপ থাকা সম্ভব নয়, যথেষ্ট হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক পেশাদার ফুটবলারদের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রো খেলোয়াড়দের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে এবং পেশাদার ফুটবলারদের অধিকার নিশ্চিত করতে ফিফায় এখনই আমূল সংস্কার প্রয়োজন।

