আশুলিয়ায় বকেয়া পাওনার দাবিতে বন্ধ দুই পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বন্ধ দুই পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেড ও ইনজেনিটেক্স অ্যাকটিভ লিমিটেডের শ্রমিকসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠান দুটিতে ৩৬০ শ্রমিক ছিলেন।

শ্রমিক নেতারা জানান, আশুলিয়ার শিমুলতলায় অবস্থিত ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেড এবং জিরাবোর কাঠগড়ায় অবস্থিত ইনজেনিটেক্স অ্যাকটিভ লিমিটেড গত এপ্রিল মাসে বন্ধ হয়ে যায়। কারখানা দুটি বন্ধের পর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুই দফা চুক্তি হলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবাররা আর্থিক অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।’

ফরিদুল ইসলামের অভিযোগ, প্রথম দফায় প্রায় ১২০ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হলেও অন্যদের করা হয়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটের কথা জানালে শ্রমিকদের পাওনা কিছুটা কমিয়ে হলেও একসঙ্গে পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে গত কয়েক দিন আগে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, খুব দ্রুত সমস্যা সমাধান করা হবে। কিন্তু এখন আর কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।’

‘আমরা স্টাফরাও কয়েক মাসের বেতন-ভাতা পাইনি,’ বলেন এই কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন বিভাগের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমারও সাত মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বললে ভালো হবে। আমরাও ভিকটিম।’

বক্তব্য জানতে ইনজেনিটেক্স বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির বাবলুর মোবাইলে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এসপি মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘দুটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট একই। প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ হয়েছে। কিছু শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মালিকপক্ষকে চাপ দিচ্ছি শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম অধিদপ্তরে মামলা করা হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটা মালিকপক্ষ মেনে নেবে।’

‘বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে সমস্যাটির দ্রুত সমাধান হয়,’ বলেন এসপি।
 

Related Articles

Latest Posts