সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৪৭ রানে বিধ্বস্ত করে রাজস্থান রয়্যালসকে আইপিএল প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছেন তরুণ বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। বুধবারের এই ম্যাচে তার ১২টি টর্নেডোতে ৯৭ রানের ইনিংসের সৌজন্যে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ারে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে রাজস্থান। ম্যাচ শেষে নিজের ক্রিকেটীয় দর্শন ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা জানিয়েছেন ১৫ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার।
চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রানের জন্য ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ (৬৮০ রান) নিজের দখলে নেওয়া সূর্যবংশী বলেন, ‘আমি কিছুটা ভাবি, খুব বেশি নয়। সবকিছু সহজ রাখার চেষ্টা করি। আমি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলার এবং বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করি। আমি বোলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাই। (আজ) আমার লক্ষ্য ছিল দলের জন্য অবদান রাখা, এখন আমার লক্ষ্য কীভাবে ট্রফি জেতা যায়।’
ম্যাচে প্রতিভাবান সূর্যবংশী স্ট্রোক খেলার আরও একটি দারুণ প্রদর্শনী দেখিয়ে আইপিএলের একক সংস্করণে সবচেয়ে বেশি ছক্কার (৫৯টি) ক্ষেত্রে ক্রিস গেইলের ১২ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেন। এখনও পর্যন্ত ৬৫টি ছক্কা মেরে এই বাঁহাতি ওপেনার শুক্রবারের লড়াইয়ের আগে গুজরাতের বোলিং বিভাগকে বড় সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের জয়ী দল আগামী রবিবার আমদাবাদে ফাইনাল ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে।
এ দিন মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে হায়দরাবাদের বিখ্যাত বোলিং আক্রমণকে গুঁড়ো করে দেন সূর্যবংশী। তার এই ইনিংসকে কেন্দ্র করেই চণ্ডীগড়ে রাজস্থান ২৪৩-৮ রানের একটি পাহাড়সম স্কোর গড়ে তোলে।.
প্রথম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে একটি সোজা ছক্কা মেরে সূর্যবংশী শুরু করেন, তারপরের ওভারে এই অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের ওপর চড়াও হয়ে মারেন তিনটি ছক্কা ও একটি চার। পরের ওভারে সাকিব হুসেনের বলে আরও তিনটি ছক্কা মেরে তিনি মাত্র ১৬ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। এরপর প্রফুল্ল হিঙ্গেকে তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারার পর মনে হচ্ছিল তিনি আইপিএলের দ্রুততম শতরানের দিকে এগোচ্ছেন—যে রেকর্ডটি ৩০ বলে গেইলের দখলে রয়েছে।
তবে হিঙ্গেই শেষ হাসি হাসেন, সূর্যবংশীকে থার্ড ম্যানে ক্যাচ আউট করিয়ে গ্যালারিভর্তি দর্শককে চরম হতাশ করেন। যশস্বী জয়সওয়ালকে একজন শান্ত ও মুগ্ধ সঙ্গী হিসেবে পাশে রেখে সূর্যবংশী মাত্র ৪৯ বলে ১২৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
পরে ধ্রুব জুরেল ২০ বলে পঞ্চাশ রান করে রাজস্থানের আক্রমণ বজায় রাখেন, তবে হায়দরাবাদ শেষ পাঁচ ওভারে ম্যাচে ফিরে আসে, যেখানে তারা মাত্র ৩৬ রান দেয়।
২৪৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা হায়দরাবাদের বিস্ফোরক ব্যাটিং লাইন-আপকে শুরুতেই ধাক্কা দেন জোফরা আর্চার।
আর্চার একটি দ্রুতগতির বাউন্সারে দ্বিতীয় বলেই ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মাকে আউট করে তাদের আশায় জল ঢেলে দেন। যদিও ঈশান কিষাণ কিছুক্ষণ পাল্টা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন, তবে ট্র্যাভিস হেডকে বোল্ড করার আগে এই ইংলিশ বোলার তাকেও বিদায় করে রান তাড়া করার মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। আর্চার তার বিধ্বংসী শুরুর স্পেলে তিন ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নেন।
লেগ-স্পিনার যশ রাজ পুঞ্জা যখন হেনরিখ ক্লাসেনকে একটি ভুল টাইমিংয়ের রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন, তখনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। নীতিশ কুমার রেড্ডি ও সলিল অরোরা পরাজয়কে কিছুটা বিলম্বিত করেছিলেন মাত্র, তবে হায়দরাবাদ ১৯৬ রানে অলআউট হওয়ায় সূর্যবংশী ও রাজস্থানের জয় আটকানো সম্ভব ছিল না।

