ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় নির্মিত ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক একাডেমি’ সাত বছরেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি অচল হয়ে পড়ে আছে।
সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিকাশের লক্ষ্যে একাডেমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমতলের প্রধান আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে—গারো, হাজং, কোচ, বর্মণ, ডালু, হদি, বানাই ও রাজবংশী।
২০১৩ সালের জুলাই মাসে হালুয়াঘাটের রাংরাপাড়া গ্রামে একাডেমির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল ১০ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাডেমির অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে—আধুনিক শব্দ ও আলোকসজ্জা এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাসমৃদ্ধ ৩০০ আসনের একটি মিলনায়তন, ৫০০ আসনের একটি উন্মুক্ত মঞ্চ ও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র।
তবে ২০১৯ সালের ২০ মে উদ্বোধনের পর গত সাত বছর ধরে একাডেমিটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করা হলেও অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকে। এখনো সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি সরবরাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই।
গত বছরের আগস্টে শুধু একাডেমির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত ১০ সদস্যের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন না হওয়ায় অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
একাডেমির পরিচালক প্রলয় স্নাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একাডেমি পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত নির্বাহী কমিটি সম্প্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো অনুমোদন হয়নি।
‘এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ একাডেমির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে’, বলেন তিনি।
প্রলয় স্নাল বলেন, গত বছর একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে শুধু গারো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব ওয়ানগালা আয়োজন করা হয়েছিল। চলতি মাসে একই স্থানে নজরুলজয়ন্তী আয়োজন করা হবে।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (টিডব্লিউএ) হালুয়াঘাট শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেমস জর্নেশ চিরান ডেইলি স্টারকে বলেন, একাডেমির নিয়মিত কার্যক্রম কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই একাডেমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
আদিবাসী গোষ্ঠীর গানের গীতিকার ও সুরকার অনুপ দ্রং ডেইলি স্টারকে বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রয়েছে। একাডেমিটি পুরোপুরি চালু হলে তাদের সন্তানদের জন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চা ও উদযাপনের জন্য একটি বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।
আদিবাসী সংস্কৃতির নৃত্যশিল্পী চঞ্চলা আজিম ডেইলি স্টারকে বলেন, একাডেমিটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিভা রয়েছে। একাডেমি থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তারা নিজেদের দক্ষতা আরও বিকশিত করতে পারবে।
হালুয়াঘাটের উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে একাডেমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, একাডেমির জন্য একটি জনবল কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাহী কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর একাডেমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

