২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু আরামকো স্টেডিয়ামের জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় আবাসন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান রোশন গ্রুপ। দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচির বিশাল প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিতে নিজস্ব অর্থের চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল (পিআইএফ) মালিকানাধীন রোশন গ্রুপ এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানকে নিয়োগ দিয়েছে।
সৌদি সরকার বর্তমানে ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতির চাপ মোকাবিলা করছে। তেলের দামের প্রত্যাশার চেয়ে কম অবস্থান এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এখন পর্যটন, ক্রীড়া ও অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে ঝুঁকছে।
পূর্বাঞ্চলীয় শহর আল-খোবারে নির্মাণাধীন ৪৭ হাজার আসনের আরামকো স্টেডিয়াম চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা। আগামী বছরের জানুয়ারিতে সেখানে প্রথম ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্টেডিয়ামটির মালিক ও নির্মাতা রোশন গ্রুপ হলেও এটি ২৫ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো।
সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য চুক্তিটি ‘লিজ অ্যান্ড লিজব্যাক’ কাঠামোয় হবে। এ ব্যবস্থায় রোশন একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠন করবে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা অংশীদার হবে এবং শুরুতেই অর্থ বিনিয়োগ করবে। বিনিময়ে তারা দীর্ঘমেয়াদে আরামকোর দেওয়া লিজ পরিশোধের একটি অংশ থেকে আয় পাবে।
এই অর্থায়নের মাধ্যমে রোশন গ্রুপ নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য অতিরিক্ত মূলধন হাতে পাবে।
ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় সৌদি আরব খেলাধুলায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ফুটবলের পাশাপাশি ফর্মুলা-ই, বক্সিং, টেনিস ও ই-স্পোর্টসেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে দেশটি।
২০৩৪ বিশ্বকাপকে সৌদি সরকারের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টের জন্য পাঁচটি শহরে ১৫টি স্টেডিয়াম নির্মাণ বা সংস্কার এবং ১৩২টি অনুশীলন ভেন্যু প্রস্তুত করা হচ্ছে।
৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের ইতিহাসে প্রথম দেশ হবে সৌদি আরব। তবে বিশাল ব্যয় এবং কিছু মেগা প্রকল্পে বিলম্বের কারণে সরকার এখন বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চাইছে।
এর আগে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালের ৭০ শতাংশ মালিকানা বিক্রির চুক্তি এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডে সংখ্যালঘু অংশীদার খোঁজার উদ্যোগও একই অর্থায়ন কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

