মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর অবশেষে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।
ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সবুজ সংকেত (ক্লিয়ারেন্স) পাওয়ার পর গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ অতিক্রম করে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন ওই জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্যের দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকালে জাহাজটি ৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল।
আজ সকালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে আমরা হরমুজ অতিক্রম করেছি। আজ আমরা আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে পৌঁছাব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে, আমরা সবাই ভীষণ খুশি। যেন অনেক দিন পর মুক্তির স্বাদ পেলাম।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সোমবার রাতেই জাহাজটি নিরাপদে পার হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার সময় আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের জলসীমানায় প্রবেশ করবে।
তিনি বলেন, প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার বহনকারী এ জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দর।
ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। এরপর কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।
ঠিক তার পরের দিনই (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা পুরো অঞ্চলে তীব্র সংঘাতের রূপ নেয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ চোক-পয়েন্টে পরিণত হয় এবং ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ বহু বাণিজ্যিক জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে।
বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কয়েকবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেও তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হয় জাহাজটি।
গত কয়েক দিন ধরে জাহাজটি প্রণালির কাছাকাছি (প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে) অবস্থান করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনুমতির অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে সোমবার সেই অনুমতি মেলে।
বিএসসি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রম করার পুরো সময়টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন সার্বক্ষণিকভাবে জাহাজের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং যোগাযোগ রেখেছে।

