২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে শান্ত খানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশের পর আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে মরদেহ তোলার কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ নাদিরা নুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনার পর মরদেহ দুটি কবর থেকে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন এলাকায় কবরস্থান থেকে মরদেহ দুটি তোলার কাজ শুরু হয়।’
সেলিম খান সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা শাপলা মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী ছিলেন সেলিম। তার ছেলে শান্ত খান একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
বিগত সরকারের আমলে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে শত শত ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুর সম্পদের মালিক হন সেলিম খান। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ ঘিরে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে তার নাম এসেছিল। দেশজুড়ে তখন তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা ছাড়াও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা চলমান ছিল। এসব ঘটনায় তিনি কারাগারেও যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন সেলিম ও শান্ত। পরে গণপিটুনিতে তারা মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করে। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সম্প্রতি আদালত কবর থেকে তাদের মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

