স্মিথ-গাউসের তাণ্ডবে টি-টোয়েন্টিতে রান তাড়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ড

ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে রান পাহাড় ডিঙানোর অবিশ্বাস্য এক নতুন ইতিহাস গড়ল ওয়াশিংটন ফ্রিডম। এমআই নিউ ইয়র্কের বিপক্ষে ২৬৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যান্ড্রিস গাউসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্ব রেকর্ডের পাতা। ২০২৬ সালের মেজর লিগ ক্রিকেটের এই ম্যাচটি চার, ছক্কা আর সেঞ্চুরির এমন এক তাণ্ডব দেখল, যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।

ভাঙল পাঞ্জাব কিংসের বিশ্ব রেকর্ড 

মেজর লিগ ক্রিকেটের ওকল্যান্ডের মাঠে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিকোলাস পুরানের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ২৬৬ রানের পুঁজি গড়েছিল এমআই নিউ ইয়র্ক। ২৬৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে সাকিব আল হাসানের তোপে পড়ে ওয়াশিংটন। রাচিন রবীন্দ্র ও মিচেল ওয়েনকে দলের ১০ রানের মধ্যে তুলে নেন সাকিব। এরপর অবিশ্বাস্য জুটিতে সব বদলে দেন স্মিথ-গাউস। বাংলাদেশের তারকা সাকিব দলের বাকিদের বেহাল দশার মাঝেও ছিলেন উজ্জ্বল। ৩৪ রানে নেন ২ উইকেট। 

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ২৬৫ রান তাড়া করাই ছিল এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কিন্তু স্মিথ ও গাউসের ব্যাটে ৪ উইকেটে ২৭০ রান তুলে সেই বিশ্ব রেকর্ড নিজেদের করে নেয় ওয়াশিংটন ফ্রিডম। দুই দল মিলিয়ে পুরো ম্যাচে রান উঠেছে ৫৩৬, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ অ্যাগ্রিগেট।

স্মিথ-গাউসের বিশ্বজয়ী পার্টনারশিপ ওয়াশিংটন ফ্রিডমের এই অবিশ্বাস্য রূপকথার মূল কারিগর অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও অ্যান্ড্রিস গাউস। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে এই দুজনের ২৪১ রানের অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপটি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। তারা ভেঙে দিয়েছেন ২০১৬ সালে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের গড়া ২২৯ রানের ১০ বছরের পুরোনো কীর্তিটি। ম্যাচে গাউস খেলেন ১৩২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস, যা মেজর লিগ ক্রিকেটে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। অন্যদিকে স্মিথ ১১০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এক ম্যাচে তিন সেঞ্চুরির প্রথম নজির 

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কোনো একটি ম্যাচে তিনটি শতক দেখার সৌভাগ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের হয়নি। এই ঐতিহাসিক ম্যাচে সেই অভাবও পূরণ হলো। প্রথম ইনিংসে এমআই নিউ ইয়র্কের হয়ে ক্যারিবিয়ান তারকা নিকোলাস পুরান মাত্র ৩১ বলে ১০৬ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যা ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। রান তাড়া করতে নেমে বাকি দুটি সেঞ্চুরি করেন গাউস ও স্মিথ।

ছক্কার বৃষ্টি ও পোলার্ডের মাইলফলক 

বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নের এই রাতে দুই দল মিলিয়ে ছক্কা মেরেছে মোট ৫১টি! টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এই প্রথম এক ম্যাচে ৫০-এর অধিক ছক্কা হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড হলো। এর মধ্যে এমআই নিউ ইয়র্ক একাই মারে ২৯টি ছক্কা। এই ম্যাচেই কায়রন পোলার্ড বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১,০০০ ছক্কার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। সব মিলিয়ে ওকল্যান্ডের মাঠে হওয়া এই ম্যাচটি বিশ্ব ক্রিকেটের পাতায় স্মিথ ও গাউসের ব্যাটে নতুন এক রূপকথা লিখে রাখল।

 

Related Articles

Latest Posts