খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবল বিশ্বে নিজের সাম্রাজ্য গড়েছেন অনেক আগেই। এবার মাঠের বাইরেও স্প্যানিশ ফুটবলে নিজের প্রভাব আরও বাড়ানোর পথে লিওনেল মেসি। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেন্সে মালিকানা নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে ইএসপিএনের একটি সূত্র।
বর্তমানে এলদেন্সের মালিক কলম্বিয়ার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গ্রুপো টিএইচ। কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডেও একাধিক ক্লাবের মালিকানা রয়েছে এই গোষ্ঠীর।
তবে মেসির সঙ্গে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য প্রথমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ করতে হবে। পাশাপাশি স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনও নিতে হবে।
সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে স্পেনে এটি হবে মেসির মালিকানাধীন দ্বিতীয় ক্লাব। এর আগে চলতি বছরই জানা যায়, বার্সেলোনায় অবস্থিত পঞ্চম বিভাগের ক্লাব করনেল্লার মালিকানা কিনেছেন তিনি।
তবে এলদেন্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ করনেল্লা এখনো আধা-পেশাদার ক্লাব। অন্যদিকে এলদেন্স স্পেনের পেশাদার ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে খেলছে। অর্থাৎ এলদেন্সের মালিকানা নিলে স্পেনে মেসির প্রথম পেশাদার ক্লাব হবে এটি।
ক্লাব মালিকানার দিক থেকে স্পেনেই অবশ্য মেসির একমাত্র বিনিয়োগ নয়। উরুগুয়ের দেপোর্তিভো এলএসএসের সঙ্গেও তিনি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের পাশাপাশি আংশিকভাবে যুক্ত।
তাৎক্ষণিকভাবে এলদেন্স ও করনেল্লার মালিকানা মেসির জন্য বড় কোনো সমস্যার কারণ হওয়ার কথা নয়। কারণ দুই ক্লাবের মধ্যে তিন বিভাগের ব্যবধান রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে করনেল্লাকে নিয়ে মেসির পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়তে পারে।
মেসি যদি দুই ক্লাবেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হন এবং কোনো একসময় করনেল্লা ও এলদেন্স একই বিভাগে উঠে আসে, তখন জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্প্যানিশ রয়্যাল ফুটবল ফেডারেশন একই মালিকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন দুই ক্লাবকে একই বিভাগে খেলতে দেওয়ার অনুমতি দেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে করনেল্লাকে নিয়ে মেসির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থাকলে ভবিষ্যতে সেটি সীমিত হতে পারে।
১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এলদেন্সের ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে স্পেনের শীর্ষ দুই বিভাগের বাইরে। ২০২৩ সালে ১৯৬৪ সালের পর প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় বিভাগে ওঠে তারা। তবে ২০২৫ সালে আবার অবনমিত হয়ে যায়। চলতি গ্রীষ্মেই দ্বিতীয় বিভাগে ফিরে এসেছে ক্লাবটি।
কিন্তু নতুন মৌসুমের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি এলদেন্সের। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে একটিতেও জয় পায়নি তারা। এর জেরে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কোচ ক্লদিও বারাগানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে কোচ ছাড়াই চলছে ক্লাবটি।
এলদেন্সের ঘরের মাঠ নুয়েভো পেপিকো আমাত। স্পেনের এলদা শহরে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে একসঙ্গে ৫ হাজার ৭৭৬ দর্শক বসে খেলা দেখতে পারেন।

