সাভারে শিশু ধর্ষণ মামলার এক সপ্তাহ পর মাদ্রাসায় অভিযান, গ্রেপ্তার নেই

ঢাকার সাভারে শিশু মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পর মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযানে ১০ আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় ওই মাদ্রাসায় অভিযান চালানো হয়।

এর আগে মাদ্রসার ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন ওই শিশুর বাবা। পরে গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। মামলায় এক শিক্ষক ও পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার  অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আজ সাভার মডেল থানার পরিদর্শক মো. আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে পুলিশের দুটি দল মাদ্রাসায় যায়। তারা সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার আসামি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নথিপত্র যাচাই করেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা পলাতক। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর পুলিশের দলটি মাদ্রাসা থেকে ফিরে আসে।

এদিকে, অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিকেলে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপারেশন ও ট্রাফিক-উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের থানায় আসেনি, বিষয়টি আপনাদের স্পষ্ট করা দরকার। ভুক্তভোগীর পরিবার আদালতে যাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সাভার মডেল থানায় আমরা মামলাটি করি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মামলা করার পরপরই আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে আমরা একাধিক সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করি। একইসঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করি। তবে আজ আসামিদের পাওয়া যায়নি।

‘তবে তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই আমরা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো’, বলেন তিনি।

এদিকে, আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই শিশুর বাবা।

আজ সাভার মডেল থানায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ৬-৭ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মিলে ধর্ষণ করেছে। আমার ছেলে অসুস্থ। এ ঘটনায় আমি মাদ্রাসার প্রধানের কাছেও বিচার দিয়েছিলাম। তিনি অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আমাকে চুপ থাকতে বলেন এবং পরে হুমকিও দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় চিকিৎসা শেষে আমার ছেলেকে নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই। আদালত সাভার থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলায় মাদ্রাসার প্রধানসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

‘দীর্ঘদিন পর হলেও পুলিশ আজ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের কাছে আমার দাবি, দ্রুত মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক’, বলেন তিনি।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং তারা প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় দেখতে চান। তবে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে যেন কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষককে হয়রানি করা না হয়, সেই দাবিও জানান তারা।

তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর বা তার কম।

জানতে চাইলে মাদ্রাসাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষক লোকমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো, কেউ কোনো অন্যায় বা অপরাধ করে থাকলে তা তদন্ত করে ওই ব্যক্তির শাস্তি হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘তাবলিগের সাথী হিসেবে ওই শিশুর বাবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কয়েকবার কথা বলেছি, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে তাকে থানায় মামলা করতে বলেছি এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। সাংবাদিকেরা গত কয়েকদিন ধরে আসছেন, তাদের চাওয়া তথ্যও দিচ্ছি। আমরা চাই, প্রকৃত অপরাধী কে, তা বেরিয়ে আসুক।’

 

Related Articles

Latest Posts