সরকারি কর্মকর্তাদের আয় বাড়লে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে এবং এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে মানুষের যখন অভাব থাকে তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে। এটা অস্বীকার করে লাভ নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রায় ১১ বছর ধরে পে-স্কেল হয়নি। কিন্তু এদিকে তো মূল্যস্ফীতি বা জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। সেই জায়গাটা আমাদের অ্যাড্রেস করতেই হবে।’
‘কারণ সরকারি কর্মচারী বলে তাদের কষ্ট পেতে হবে, বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বাড়বে—এটা বৈষম্য হয়ে যায়। এই জায়গাতেই আমরা আশা করছি, তাদের যখন আয় বাড়বে তাদের যখন জীবনযাত্রার মান একটু উন্নত হবে, নিশ্চয়ই তখন দুর্নীতিও কমবে,’ বলেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, র্যাব বা সরকারি লোকজন দিয়ে হয় না। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পলিসির মাধ্যমে ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে। আমরা যদি পলিসিগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি মনে করি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে না।’
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতাই কোন খাতে কত চাকরি হবে এটা বলা সম্ভব না। আমরা বিস্তারিত বলেছি, আইসিটিতে শিল্পখাতে কৃষিতে বিদেশে কর্মসংস্থান কত হবে। আমরা হয়তো এগুলোর বিপরীতে সংখ্যা বসাইনি। কিন্তু কোন কোন খাতে চাকরি হবে, তা বিস্তারিত বাজেটে বলেছি। সংখ্যা দেইনি, কারণ সংখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি কর্মসংস্থানের যে প্রেডিকশন করেছি, সেটা পূরণ করতে পারব। কর্মসংস্থান এমনি হয় না, সেটা তৈরি করতে হয়। এজন্য আমরা বিনিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছি। বিনিয়োগ মানে কর্মসংস্থান, সেটা সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক।’
‘দেখবেন শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বড় বরাদ্দ দিয়েছি, তার মূল কারণ স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা বাড়ানো। আপনি যদি দক্ষ শ্রমিক হন বা কর্মচারী হন, আপনার চাকরি দেশে-বিদেশে সব জায়গায় হওয়া খুবই সহজ,’ বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষকে এই বাজেটের আওতায় আনার জন্য আমাদের স্লোগান ছিল অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করা। এর আগে অর্থনীতিটা ছিল পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি, কিছু গোষ্ঠীর জন্য অর্থনীতি।’
তিনি বলেন, ‘যারা অর্থনীতির ভাবনার বাইরে ছিল আমরা সেই মানুষগুলোকে এই বাজেটের আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। আমাদের সীমিত সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সবার জন্য কম-বেশি বরাদ্দ দেওয়া আছে, প্রোগ্রাম আছে এবং রোডম্যাপ আছে।’
‘শুধু পলিসি নয়, আমরা রোডম্যাপও দিয়েছি। এটা বাস্তবায়ন করতে গেলে আমাদের কী করতে হবে, সেটাও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। এজন্য এই বাজেটটি একটু ভিন্নধর্মী,’ যোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড় দশকে বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। রুল বেজড ইকোনমিক অর্ডার থেকে বিশ্ব সরে গিয়ে একটা প্রটেকশনিস্ট অর্ডারে চলে গেছে। দ্বিতীয় কথা হলো যুদ্ধ-বিগ্রহ এখন নিউ নরমাল, এখান থেকে আমরা বের হতে পারছি না। যার কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের ক্ষেত্রে এ চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। কারণ আমরা যেটা ইনহেরিট করেছি, বিগত সরকারের পর অন্তর্বর্তী সরকার থেকে যুদ্ধ—সব মিলিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি।’

