দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। জাতীয় দলে অসাধারণ সময় কাটানোর জন্য বিদায়বেলায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একইসঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ফিফা সভাপতি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ১২৫ গোল, যা দলটির পক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপার পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪) জিতেছেন তিনি। নিজের ঝুলিতে আরও পুরেছেন ফিনালিসিমা।
মেসির অবসরের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইন্সটাগ্রামে ইনফান্তিনো লিখেছেন, ‘একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য (লিওনেল মেসিকে) অভিনন্দন, যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সুন্দর এই (ফুটবল) খেলাটিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।’
তিনি যোগ করেছেন, ‘২০২২ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী, আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করার পাশাপাশি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের অধিকারী— তোমার এই জাদুকরী প্রতিভা ও বিনয় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ফিফা প্রধান আরও লিখেছেন, ‘(আর্জেন্টিনার) জার্সিতে অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি উপহার দেওয়ার জন্য এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।’
সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের দুই দিন পর জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। এর এক মাসেরও বেশি সময় পর তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা এই ফুটবলার প্রকাশ করেছেন তার সিদ্ধান্ত।
ইন্সটাগ্রামে হাতে লেখা নোট পোস্ট করে বিদায় জানিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর এতদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…।’
সবশেষে একটি টীকায় তিনি লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমি লিখেছিলাম গত ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার (মৃত্যু) পর, আমি আগের চেয়েও এই বিষয়ে (আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে অবসর নেওয়া) বেশি নিশ্চিত।’
গত ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর রোসারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রথম দিকের বছরগুলো থেকে শুরু করে মেসির গোটা ক্যারিয়ারেই ছায়ার মতো নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন হোর্হে।

