বিশ্বকাপের রেশ এখনও কাটেনি, খেলোয়াড়দের ব্যাগে এখনও লেগে আছে অন্য এক মহাদেশের প্রভাব। তবে অপেক্ষায় থাকছে না স্পেনের ক্যালেন্ডার। আজ শনিবার আলাভেস আর গেতাফের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ মৌসুমের লা লিগা। যদিও এই শুরুর মঞ্চে নেই স্পেনের দুই সবচেয়ে বড় নাম বার্সেলোনা আর জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ।
কারণটা লুকানো নেই কোথাও। এই দুই ক্লাবের অনেক ফুটবলারই বিশ্বকাপের শেষ পর্ব পর্যন্ত মাঠে ছিলেন, তাই এই দুটি দলের প্রথম ম্যাচ পিছিয়ে গেছে পরের সপ্তাহে। লা লিগার পরপর দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা ২৩ আগস্ট যাচ্ছে এলচের মাঠে, আর ঠিক পরদিনই রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দ্বিতীয় দফায় নামছেন মরিনহো, প্রতিপক্ষ এস্পানিওল।
প্রশ্নটা এখন সবার মুখে মুখে, পরপর দুই মৌসুম কোনো বড় ট্রফি ছাড়া কাটানো রিয়ালকে কি ফিরিয়ে আনতে পারবেন এই পর্তুগিজ কোচ, আর গ্রীষ্মে আনা নতুন মুখগুলো কতটা মানিয়ে নেবে দলের সঙ্গে?
বার্সেলোনার পিছিয়ে যাওয়া ম্যাচটা ছিল অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে, রিয়ালের রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে। একই কারণে পিছিয়েছে রিয়াল বেতিসের ভ্যালেন্সিয়া সফরও, আর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মালাগার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ চলে গেছে কয়েকদিন পিছিয়ে, ১৯ আগস্টে।
তবে অ্যাতলেটিকোর মৌসুম শুরু হচ্ছে একটা অমীমাংসিত গল্প নিয়ে। হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে দলবদলের গুঞ্জন এখনও থামেনি, যদিও ক্লাব স্পষ্ট করে দিয়েছে, বার্সেলোনার কাছে তাকে বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা নেই। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার কারণে ছুটি শেষ হয়েছে সবার শেষে, তারপরও আলভারেজ অনুশীলনে ফিরেছেন সতীর্থদের সঙ্গে।
ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছে থাকা আলভারেজের একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম। বুধবার মেত্রোপলিতানোয় যদি তিনি মাঠে নামেনও কোনোভাবে, গ্যালারির কড়া সমালোচনা এড়ানো তার জন্য কঠিন হবে। দিয়েগো সিমিওনের দল গত মৌসুম ট্রফিহীন কাটিয়ে লিগে চতুর্থ হয়ে শেষ করেছিল, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড থাকুন বা না থাকুন, এবার আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার তাগিদ স্পষ্ট তাদের মধ্যে।
গত মৌসুমে চমক দেখানো ভিয়ারিয়াল লিগ শেষ করেছিল তৃতীয় স্থানে, মার্সেলিনো গার্সিয়া তোরালের অধীনে। মৌসুম শেষে বিদায় নেওয়া মার্সেলিনোর জায়গায় এসেছেন ৩৮ বছর বয়সী ইনিগো পেরেস, যিনি রায়ো ভায়েকানোকে নিয়ে গিয়েছিলেন কনফারেন্স লিগের ফাইনালে, আর সেই কীর্তিই তাকে এনে দিয়েছে ভিয়ারিয়ালের মতো বড় দায়িত্ব।
আয়োসে পেরেস, নিকোলাস পেপে, আলবার্তো মোলেইরোর মতো আক্রমণাত্মক ফুটবলার নিয়ে গড়া দলটার সঙ্গে নতুন কোচের রসায়ন কাগজে-কলমে বেশ আকর্ষণীয় লাগছে, মৌসুমজুড়ে তাদের ওপর চোখ রাখার যথেষ্ট কারণ আছে। রোববার রাসিং সান্তান্দেরের মাঠে দিয়ে শুরু, তারপর ২৩ আগস্টই পরীক্ষা, শীর্ষ চারের অন্যতম দাবিদার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে।
এই মৌসুমে লা লিগায় ফিরেছে তিনটি এমন নাম, যাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরনো গৌরবের স্মৃতি- রাসিং সান্তান্দের, দেপোর্তিভো লা করুনিয়া আর মালাগা। দেপোর্তিভোর কথা মনে থাকার কথা অনেকেরই, ২০০৪ সালে যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে গিয়ে থেমেছিল মরিনহোরই তখনকার দল পোর্তোর কাছে। মালাগা ২০১৩ সালে খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর দুই ক্লাবই ধীরে ধীরে তলিয়ে গিয়েছিল স্পেনের তৃতীয় স্তরে।
রাসিং সান্তান্দেরও গত চোদ্দ বছরের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছে সেই অন্ধকারেই, ২০১২ সালের পর এই প্রথম তারা ফিরছে শীর্ষ স্তরে। তিন ক্লাবেরই সমর্থকগোষ্ঠী চিরকাল ছিল প্রাণবন্ত, তাদের মাঠে ফেরাটা লিগের রংও কিছুটা বাড়িয়ে দেবে বলেই ধারণা।
রিয়াল সোসিয়েদাদের গল্পটা আবার একটু আলাদা। ডিসেম্বরে সের্হিও ফ্রান্সিসকোর জায়গায় আসা আমেরিকান কোচ পেলেগ্রিনো মাতারাজো দলের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। নিউ জার্সির এই কোচ সান সেবাস্তিয়ানে যেন এক ঝলক তাজা বাতাস নিয়ে এসেছিলেন, দলকে রেলিগেশনের শঙ্কা থেকে টেনে তুলে জিতিয়েছিলেন কোপা দেল রে।
কাপ জেতার পর দলের স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবাল বলেছিলেন, তিনি কখনো পানির উপর হাঁটেননি, কিন্তু ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই মনে হচ্ছিল। তবে মাতারাজোর প্রথম কয়েক মাস যদি ছিল দলের মানসিকতা আর মনোবল ফেরানোর লড়াই, এবার তাকে মন দিতে হবে কৌশলগত উন্নতি আর রক্ষণের দৃঢ়তায়, সেটাই হয়তো আসল পরীক্ষা।
প্রথম রাউন্ডের সূচি (বাংলাদেশ সময়)
শনিবার: আলাভেস–গেতাফে (রাত ১১:৩০), সেভিয়া–রায়ো ভায়েকানো (রাত ১:৩০)
রোববার: রাসিং সান্তান্দের–ভিয়ারিয়াল (রাত ৯:০০), এস্পানিওল–লেভান্তে (রাত ১১:০০)
মঙ্গলবার: দেপোর্তিভো লা করুনিয়া–এলচে (রাত ১:০০)
বৃহস্পতিবার: অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ–মালাগা (রাত ১:০০)

