রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও ‘রোহিঙ্গা নন’ প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
তারা হলেন—আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দিন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সন্তোষ কান্তি দাশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকের হোসেন ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মতিন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমানের সই করা ১২ জুলাইয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও ‘রোহিঙ্গা নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ও অসম্পূর্ণ তথ্যসহ প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করে ভোটার তালিকাভুক্তিতে সহায়তা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের পর তার দায়িত্বে থাকা সমীচীন নয়। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধেও একই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি কোনোভাবেই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। হয়তো ইউপি সদস্যরা রোহিঙ্গাদের পরিচয় গোপন রেখে আমার কাছ থেকে নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছেন। আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে যথাযথ জবাব দেবো।’
যোগাযোগ করা হলে আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত বরখাস্ত নয়। অভিযুক্তদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদে এখনো কোনো প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এস এম মনজুরুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। প্রশাসনিকভাবে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।’

