ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগাল দলে তৈরি হওয়া অস্বস্তি এবার পৌঁছেছে চরমে। নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর জাতীয় দলের পরের দিনের অনুশীলনেও দেখা যায়নি তাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি সামাল দিতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা, কোচ জর্জে জেসুস ও অধিনায়ক রোনালদো।
নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে পর্তুগাল। কিন্তু পুরো ৯০ মিনিটই বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে রোনালদোকে। মাঠে নামতে না পারায় তার অস্বস্তি যে ছিল, ম্যাচের পর মুখভঙ্গিতেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর মঙ্গলবারের অনুশীলন ঘিরে তৈরি হয় নতুন আলোচনা। দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ না দিয়ে হোটেলে ব্যক্তিগতভাবে জিমে অনুশীলন করেন তিনি।
অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেই জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভূমিকা নিয়ে বেশ পরিষ্কার বার্তা দিয়েছিলেন রোনালদো, ‘আমি খেলি বা না খেলি, আমি পর্তুগালের হয়ে সাহায্য করতে এখানে আছি। আমি অনেকের মধ্যে একজন। সব সময়ই এমন ছিল এবং ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে। আবারও বলছি, কোচ আমার কাছে যা চাইবেন, আমি সেটিই করব, খেলতে বললে খেলব, তুলে নিলে উঠে যাব, এমনকি না খেলালেও। পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে।’
কিন্তু মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানেই সেই কথার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতায় তৈরি হয়েছে বড় ফারাক। ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে আক্রমণভাগে রোনালদোর প্রভাব নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে তাকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রাখেন জেসুস। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৮ বছর পর এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় পর্তুগিজ তারকাকে।
ম্যাচের আগে অবশ্য রোনালদোকে বদলি হিসেবে নামানোর কথা জানিয়েছিলেন জেসুস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে মাঠে নামাননি পর্তুগাল কোচ। ম্যাচ শেষে জেসুস বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি যে সে অসন্তুষ্ট ছিল। এর উত্তর একমাত্র সেই দিতে পারে। তবে তাকে না খেলানোর অর্থ এই নয় যে আমি তার ওপর নির্ভর করি না। বরং ম্যাচের আগে আমি তাকে বলেছিলাম, “তুমি শুরু করবে না, তবে তোমাকে বদলি হিসেবে নামাব।” ফুটবল তার নিজস্ব নিয়মে চলে। আর এই ম্যাচে আক্রমণভাগে পরিবর্তন আনার কোনো কারণ ছিল না, বিশেষ করে সামনে ডেনমার্কের ম্যাচ আছে এবং সেখানে সে হয়তো প্রথম পছন্দ হতে পারে।’
পর্তুগাল দল এখন সুইডেনের মালমো শহরে অবস্থান করছে। কোপেনহেগেনের কাছাকাছি হওয়ায় ডেনমার্কের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে সেখানেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। মঙ্গলবার অনুশীলন শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টা আগে এলেদা স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন রোনালদো। সেখানে জেসুসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথাও বলেন তিনি। এরপর আবার হোটেলে ফিরে যান।
রোনালদো কেন দলের অনুশীলনে ছিলেন না, সে বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত অনুশীলনের জন্য রোনালদোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মালমো এফসির মাঠে নেই। পরে বিষয়টি নিয়ে জেসুসও সংক্ষেপে বলেন, ‘আমি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে প্রতিদিন, প্রতিটি মিনিট কথা বলি।’
পর্তুগাল কোচ তার সঙ্গে রোনালদোর কোনো বিরোধের কথাও অস্বীকার করেছেন। কিন্তু এর মধ্যেই পর্তুগিজ গণমাধ্যম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানায়, পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে নিজের পূর্বনির্ধারিত সূচি বদলে ফেলেছেন ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা।
বুধবার আজোরেসে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-২১ দলের জিব্রাল্টারের বিপক্ষে ম্যাচ দেখার কথা ছিল প্রোয়েনসার। ম্যাচটি জিতলেই ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা নিশ্চিত করত পর্তুগালের তরুণেরা। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার ডেনমার্কে যাওয়ার কথা ছিল তার, যেদিন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির বিপক্ষে সিনিয়র দলের ম্যাচও রয়েছে।
কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করে সরাসরি কোপেনহেগেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রোয়েনসা। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুট মার্কাতোর বরাত দিয়ে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে গিয়ে মালমোতে জেসুস ও রোনালদোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন ফেডারেশন সভাপতি।

