রামিসা হত্যা: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালতের পাঠানো নথি (ডেথ রেফারেন্স) এবং আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বেঞ্চের সামনে আগে উপস্থাপিত ২১টি বিষয় নিষ্পত্তির পর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন তারেক।

আজ রোববার ইমাম হোসাইন তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বর্তমানে ফেনীর মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা ও মাগুরায় আট বছর বয়সী আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি করছেন।

তবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিলের শুনানি কবে শুরু হতে পারে, তা জানাতে পারেননি তিনি।

নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি এবং নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজাকে নিয়ে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। 
এর মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাও রয়েছে।

গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ

হত্যাকাণ্ডের একদিন পর নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান পল্লবী থানায় মামলা করেন। এতে প্রতিবেশী সোহেল রানা  ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, আট বছর বয়সী রামিসাকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল রানা। পরে অপরাধ ঢাকতে সোহেল শিশুটির গলা কেটে হত্যা ও মরদেহ টুকরো করার চেষ্টা করে।

গত ৭ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই অপরাধে সহায়তা করার দায়ে তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিন পর রায় দেওয়া হয়। পরে সোহেল ও স্বপ্না কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পৃথক আপিল করেন। এতে তারা নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ থেকে খালাস চান।
 

Related Articles

Latest Posts