মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ সংকটের পেছনে দেশে সক্রিয় ‘রাজনৈতিক সিন্ডিকেট’কেও দায়ী করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তার অভিযোগ, জ্বালানি খাতসহ বড় সব সিন্ডিকেশনের পেছনে রয়েছে শাসক দলের প্রভাব—যা অতীতেও ছিল, এখনো আছে।
আজ শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ।
দেশের জ্বালানি খাতে ‘হাহাকার’ চলছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যত বড় সিন্ডিকেশন, তার পেছনে রুলিং পার্টিরই হাত থাকে। পরিবর্তন হয়নি।’
তার কথায়, সংসদে সরকারি দলের বক্তব্যে মনে হয় দেশ তেলে ভাসছে, অথচ বাস্তবে সাধারণ মানুষ মাইলের পর মাইল লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না।
‘তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই’—এই মন্তব্যও করেন তিনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত বাফার স্টক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাহিদা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তার প্রস্তাব, অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে বিকল্প জ্বালানি—বিশেষ করে সোলার ও অন্যান্য উৎস বিস্তারে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়নই সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কথা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কম। সব আশা বিফলে যায়নি, কিন্তু এখনো জাতির জন্য খুব ভালো কিছু ডেলিভারি আসেনি।’
দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গোটা সমাজ এখন গোঁজামিল আর টপ-ড্রেসিংয়ে চলছে। ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রকৃত নগদ না থাকলেও খাতায় লাভ দেখানো হচ্ছে—এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।’
মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘পলিটোক্রেটিক নয়, মেরিটোক্রেটিক সোসাইটি দরকার।’
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। অভিযোগ করেন, সেখানে ‘বিসিবির মতো ক্যু’র চেষ্টা চলছে। তার প্রশ্ন, মেধাভিত্তিক একটি সংগঠনে কেন জোর করে নেতৃত্ব দখলের রাজনীতি থাকবে?
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, ‘কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ জ্বালানি সংকটে সেচ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, কৃষির বিপর্যয় মানেই জাতির বিপর্যয়—যা কোনো বিদেশি সহায়তায়ও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট, ফ্যাসিজম আর গায়ের জোরের পথে চলা হলে আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াব।’

