এ যেন অনেকটা ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’-কাহিনি। সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাড়ি এসে তার দেখা তো পাওয়া গেলই না, এমনকি কথা বলার সুযোগও মিললো না। উল্টো দেখা গেল—‘সবচেয়ে বড় শত্রুর সবচেয়ে বড় বন্ধুর’ সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দহরম-মহরম।
বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কথা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে এসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত নেতা’র খেতাব পাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে যেন ‘মুখ লুকিয়ে পালাতে’ হলো।
একইদিনে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সংবাদের শিরোনাম করে—‘নেতানিয়াহুর স্বল্পসময়ের নিউইয়র্ক সফর মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রতিফলন।’
এতে বলা হয়—জাতিসংঘে ভাষণ দিতে আসা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাভাবিক সংক্ষিপ্ত সফর গত বছরের সপ্তাহব্যাপী সফরের সুস্পষ্ট বিপরীত। গত বছর তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করেছিলেন।
তবে এবারের সফরে বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সম্পর্ক কঠিন সময় পার করছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এ বছর নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু ৮ ঘণ্টার কম সময় থেকে থাকতে পারেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল—তিনি ৯ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে ৫ দেশ লাতিন আমেরিকার। গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিমতীরে বসতিস্থাপন বাড়ানোয় দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরায় নেতানিয়াহু লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পথ খুঁজছেন।
তবে ওই প্রতিবেদনে এটাও জানানো হয় যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়—গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে নেমে দুপুরে জাতিসংঘে ভাষণ দেন। আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও পানামার রাষ্ট্রপতিদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তিনি বিমানবন্দরে চলে যান।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়—নেতানিয়াহু এক এক করে ১৪ বার দাঁড়িয়েছিলেন জাতিসংঘের ভাষণ-মঞ্চে। বিশ্ব সংস্থাটির সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে ও পরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতেন তিনি। আর মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হতো তার দীর্ঘ বৈঠক।
যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর বৈঠকের সংবাদ ফলাও করে তুলে ধরা হতো ইসরায়েলের জনগণের সামনে।
কিন্তু, এবারের চিত্র নেতানিয়াহুর জন্য একেবারেই অন্যরকম।
এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অর্থাৎ, নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের ‘বিশ্ব সম্মেলনে’ ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাউকেই যেন পাশে পাননি এই ইসরায়েলি নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের পর অপর ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাজ্য সম্প্রতি, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে ব্যবসা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
অপর ঘনিষ্ঠ মিত্র ফ্রান্স এখন তেল আবিবের ‘শত্রুর’ তালিকায়। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠছে ‘জিগিরের বন্ধু’ জার্মানির বিরুদ্ধে। তাই তেল আবিবের কাছ থেকে বার্লিনও দূরত্ব বজায় রাখছে।
স্বাধীন ফিলিস্তিন নিয়ে ইসরায়েলের নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে বিরক্ত একসময়ের ঘনিষ্ঠ ইউরোপের অন্যান্য দেশও।
সেই যেন ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’র বাস্তবতা ইসরায়েলের বাইরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নেতানিয়াহুকে। উপরন্তু, গণহত্যার অভিযোগে তার মাথার ওপর আছে আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘের ভাষণমঞ্চে দাঁড়ান, তখন অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের এক এক করে অধিবেশনস্থল ছাড়তে দেখা যায়।
তার ভাষণের সময় সুবিস্তৃত হলরুমের বিশাল অংশ ফাঁকা দেখা যায়। এমনকি, সম্মেলনের সভাপতিদের আসনে থাকা তিনজনের মধ্যে একজনের আসন ফাঁকা ছিল।
সেদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনের শিরোনামে জানায়, ‘ভাষণের আগে ব্যাপক হারে সভাকক্ষ ত্যাগ করতে দেখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়া।’
এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকায় কূটনীতিকদের এই প্রতিবাদ। সেই অঞ্চলে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় সম্মেলন কক্ষে যেমন প্রতিবাদ হয়েছে, তেমনি জাতিসংঘ ভবনের বাইরেও হয়েছে বিক্ষোভ-সমাবেশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়—নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন অস্কার বিজয়ী হলিউড তারকা এলিয়ট পেইজ, সুসান সারানডন, হান্নাহ আইনবিন্ডারসহ আরও অনেকে।
বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করো’ ও ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া হলিউড তারকাদের পাশাপাশি শতাধিক প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তারের খবরও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচার করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বিক্ষোভের মুখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে বেপরোয়া নেতানিয়াহু।
এতে আরও বলা হয়—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলি নেতা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের জনমানসেও ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। গত জুলাইয়ে পিউ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে—৬২ শতাংশ মার্কিনি নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬০ শতাংশ ইহুদি আশা করছেন যে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় হবে।
ইসরায়েলবিরোধী মার্কিন সংগঠন জুইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশন-এর রাজনৈতিক শাখার পরিচালক বেথ মিলার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে নিউইয়র্কে আসছেন যার মাধ্যমে সুস্পষ্ট যে এখানে কেউ তাকে দেখতে চাচ্ছেন না।’
বেথ মিলারের মতে, ‘এখন অনেকে চান না মার্কিনিদের করের টাকা ইসরায়েলি সরকারকে দেওয়া হোক।’
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবের কাওয়াস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘হাজারো মানুষ আমাদের শহরে নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতা করছেন।’
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসার আগে থেকেই বহু মানুষ তার সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করছেন। তারা নেতানিয়াহুর সফর কাটছাঁট করাকেও তাদের ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন।
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি চান আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আসা নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র গ্রেপ্তার করুক।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর টাইমস অব ইসরায়েল জানায়—জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের ইহুদি সংগঠন ও ইসরায়েলিদের একাংশ প্রতিবাদ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়—নানান দল-মত-আদর্শের অনেক ইহুদি সংগঠনের সদস্যরা নিউইয়র্ক শহরের নানান জায়গায় সারাদিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন।
সংবাদমাধ্যমটির অপর এক প্রতিবেদনগুলোয় জানানো হয়—বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুকে শয়তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তারা জাতিসংঘের বাইরে ইসরায়েলি সরকারকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
এক সংগঠক ওফির গুতেলজন টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেছেন, ‘আশা করছি, বিশ্ববাসীর কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে আমরা ইসরায়েল সরকারের অংশ নই।’
সংবাদমাধ্যমটির অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়—হাজারো বিক্ষোভকারী নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণের প্রতিবাদ করে ‘জায়নবাদের পতন হবে’ স্লোগান দেন।
এক বিক্ষোভকারীর ভাষ্য: ‘জায়নবাদ হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। নিউইয়র্কে কোনো ধরনের জায়নবাদের স্থান নেই।’
প্রতিবাদকারীরা নেতানিয়াহুকে রক্তে সিক্ত ও তার রক্তমাখা হাতের পোস্টার বহন করেছেন।
শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের ‘সমর্থক’ বলায় এর প্রতিবাদ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ ইহুদি নেতারা।
তাদের মতে, নেতানিয়াহু যা বলেছেন তা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেবে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট আই ‘ইসরায়েল মার্কিনিদের মন হারিয়েছে এবার রাজনৈতিকদের মন হারানোর পালা’ শিরোনামের এক মতামতে জানায়—যুক্তরাষ্ট্রের ডানপস্থি, বামপন্থি, রক্ষণশীল ও উদারপন্থি—অর্থাৎ সবাই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করেছে।
এতে আরও জানানো হয়—ইসরায়েলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গাজায় গণহত্যার সমর্থনকারী নাফতালি বেনেটও বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছি। আমরা পুরো বিশ্বকে হারিয়েছি।’
মতামতটির লেখক ও নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামিদ দাবাশির মতে—পুরো বিশ্ব কখনোই ইসরায়েলের পক্ষে ছিল না। তাই পুরো বিশ্ব হারানোর কিছু নেই। বরং, ইসরায়েল মার্কিন নেতাদের হারিয়ে ফেলছে। এক সময় এসব নেতাদের ইসরায়েলি গোয়েন্দারা নিজেদের ‘পকেটে’ রাখতো।
এখন দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন জনগণের নেতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের নেতাদের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়—‘নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের অবস্থানকে নজিরবিহীনভাবে তলানিতে নামিয়ে এনেছেন।’
এতে আরও বলা হয়—কেউ যদি অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন যে এই গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক অভূতপূর্ব সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
এই সংকটের জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়—হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল রাষ্ট্রপতি থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক তলানিতে এনে ঠেকিয়েছে।
যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তর করেছেন তিনিই এখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যে ট্রাম্প প্রতিনিয়ত নিজেকে ইসরায়েলের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে দেখেন, তিনি এখন জেনে গেছেন যে, মার্কিনিদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন অনেকটাই কমে গেছে।
সম্পাদকীয়টিতে আরও বলা হয়—গত ২ বছরে নেতানিয়াহুর সরকার, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ ইসরায়েলের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের মধ্যেও নামিয়ে দিয়েছেন।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে—ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের নেতিবাচক মনোভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান দুই দলের আলোচিত প্রার্থীদের কেউই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।
এমনকি, আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বর্তমান উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সও চান না ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনকার মতো সুগভীর থাকুক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে আরও জানা যায়—রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের ডাকেননি।
সংবাদমাধ্যম থেকে আরও জানা যায়—ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহু একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, কোনো বৈঠক আয়োজন করা হয়নি।
এর আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মার্কিন কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গেও সফররত নেতানিয়াহুর দেখা করার পরিকল্পনা নেই।
অর্থাৎ, মার্কিন জনগণের ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের প্রভাব যে হোয়াইট হাউসের অন্দরেও প্রতিফলিত হচ্ছে তা এবার নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরে যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো।
গত ২০ সেপ্টেম্বর আল জাজিরার এক মতামতে জানানো হয়—গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমের দেশগুলো থেকে ইসরায়েল শুধুমাত্র সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পায়নি; ব্যাপকহারে পেয়েছে সংবাদমাধ্যমের সমর্থনও।
এখন সেই সমর্থন কমতে শুরু করেছে বলেও এতে মন্তব্য করা হয়।
মতামতটিতে বলা হয়—যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরানের অনুষ্ঠান থেকে গ্র্যামিবিজয়ী মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের সমর্থনে ধস নামার দৃশ্য বিশ্ববাসীর নজরে আসে।
ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোয় মার্কিন র্যাপারকে এড শিরানের অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলপন্থিদের সেই পুরোনো কৌশল এবার কাজে আসতে দেখা যায়নি।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর দ্য জেরুসালেম পোস্ট ম্যাকলমোরের ইনস্ট্রাগ্রাম পোস্টের বরাত দিয়ে জানায়—এড শিরানের অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়ার পর ম্যাকলমোর ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’ সফর শুরু করতে যাচ্ছেন।
আগামী অক্টোবর সেই সফর শুরু হবে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন থেকে। এরপর তার অনুষ্ঠান হবে লন্ডন ও প্যারিসে।
ম্যাকলমোরের ভাষ্য: মানুষ এখন শিল্পীদের আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। তারা তাদেরকে সচেতন করার অনুরোধ করছে। তারা শিল্পীদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে বলছে।
তার মতে, মানুষ মঞ্চকে বিনোদনের চেয়ে আরও বেশি কাজে ব্যবহারের কথা বলছে। যারা স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিকে স্তব্ধ করতে চায় তাদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
ইসরায়েলের বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন—ম্যাকলমোরকে নিয়ে ইসরায়েলপন্থিরা ‘বাড়াবাড়ি’ করায় তা তাদের জন্য হিতে বিপরীত হয়েছে। ম্যাকলমোর ঘটনায় একদিকে যেমন ইসরায়েলপন্থিদের ‘মুখ পুড়েছে’, অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যু বিশ্বব্যাপী আরও জোরালো হয়েছে।
জার্মানির সরকারি সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক ভিডিও প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—‘বার্লিনের ইহুদি জাদুঘর পুলিশ পাহারায় কেন?’ জগৎ-খ্যাত এই জাদুঘরের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি প্রতিবেদনটিতে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি জার্মানিতে ইহুদিদের বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরা হয়।
এ কথা সবাই জানেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের হাতে ৬০ লাখ ইহুদি নিহত হওয়ায় জার্মানি ইসরায়েলের প্রতি বেশ সহানুভূতিশীল। তারা ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তাসহ বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে।
অথচ গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, জার্মানিতে কোনো বাড়িঘর ও প্রতিষ্ঠানের সামনে পুলিশ দেখলে ধরে নেওয়া যেতে পারে সেখানে ইহুদিদের বাস।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে, বিশেষ করে, জার্মানিতে ব্যাপকহারে ইহুদিনিধন বা হলোকাস্টের পর ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে স্থানীয় অধিবাসীদের হত্যা ও জোরপূর্বক সরিয়ে ইহুদিদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি ইসরায়েল গঠন করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর রয়টার্স এক প্রতিবেদন জানায়—যুক্তরাজ্য পুলিশ বলেছে তারা ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
এতে বলা হয়, ম্যানচেস্টারের মধ্যাঞ্চল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বয়স ৩০ এর কোঠায়। তাদেরকে লন্ডনে কারাগারে রাখা হয়েছে।
আরও বলা হয়—গাজা যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষ অনেক বেড়ে গেছে।
চলতি বছরের শুরুতে দেশতে ইহুদিদের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ২ লাখ ৯০ হাজার ইহুদি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর আল জাজিরার এক মতামতে বলা হয়—চলতি বছর ৩৬ দেশে জরিপ চালিয়ে পিউ গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে—জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশের হার যুক্তরাজ্যে ৬৯ শতাংশ, জার্মানিতে ৭৩ শতাংশ, ইতালিতে ৭৫ শতাংশ ও অস্ট্রেলিয়ায় ৭৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশের হার ৬০ শতাংশ। দেশটিতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৭৪ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৭৮ শতাংশ ও অস্ট্রেলিয়ায় ৮৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথিতযশা রাজনীতিক ও বর্ষীয়ান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বহু বছর ধরে মার্কিনিদের এ কথা বলে আসছেন যে, তাদের কষ্টার্জিত করের টাকা তাদের নেতারা দখলদার ইসরায়েলকে পুষ্ট করতে খরচ করছেন। বিনিময়ে ইসরায়েলি সরকার তাদের পক্ষে সাফাই গাইতে মার্কিন রাজনীতিকদের নানা ধরনের ‘উপহার’ দিয়ে আসছেন।
এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া উচিত বলেও বিশ্বাস করেন হলোকাস্ট পরিবারের এই সদস্য।
বার্নি স্যান্ডার্সের এমন আহ্বান সাড়া জাগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ রাজনীতিকদের মনে। এই তালিকায় আছেন মূলত ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও অন্যান্য সাম্যবাদী দলের তরুণ-যুবারা।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক রিভারসাইড চার্চে এক ভাষণে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর সামরিক খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে। অথচ, দেশটিতে ৮ লাখ মানুষ গৃহহীন।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে লাখো মানুষ তাদের প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে।
তার দৃষ্টিতে, এমন পরিস্থিতি সারা পৃথিবীতেই দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছর সামরিক খাতে খরচ বাড়ানো হচ্ছে। অথচ কোটি কোটি মানুষ বেকার।
তিনি মনে করেন, সামরিক খাতে খরচ না বাড়িয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানো জরুরি।
এই স্বতন্ত্র ইহুদি সিনেটর আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের চরমপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে। এই সরকার গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নেতানিয়াহু সরকারকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা।’
‘ইউক্রেনে প্রতিবেশী রাশিয়ার হামলাও বন্ধ করতে হবে। সেখানে যুদ্ধ বন্ধ হলে রুশ ও ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষা পাবে। সুদানের গৃহযুদ্ধে আরব আমিরাতের অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।’
যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সব সংকট দূর করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।
এই রিভারসাইড চার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে এ কারণে যে, এখানে ড. মার্টিন লুথার কিং ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী ভাষণ দিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকারের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নেলসন ম্যান্ডেলা বক্তব্য রেখেছিলেন।
বার্নি স্যান্ডার্সের গণমুখীনীতির ভাবনা তার দেশের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী আলেক্সান্ড্রিয়া ওকসিও-কর্টেজ ও নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিসহ হাজারো তরুণ নেতাদের উজ্জীবিত করছে।
তারা ক্রমাগত যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষদের ভাগ্য বদলানোর কথা বলে ভোটারদের মন জয় করে চলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করে তারা দেশটির লাখো মানুষকে নতুন করে ভাবতে প্রেরণা জোগাচ্ছেন।
এ কারণে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ নেতাদের বার্নি স্যান্ডার্সের শিষ্য হিসেবে গণ্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে ‘ইস্পাতকঠিন’ শব্দটি সাধারণত ব্যবহার করে থাকেন ইসরায়েলপন্থি মার্কিন রাজনীতিকরা। তারা এমন পরিভাষা ব্যবহার করেন মূলত এটাই বোঝাতে যে—ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে বিদ্যমান সার্বিক সম্পর্ক কোনকিছুতেই নষ্ট হওয়ার নয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার হামাস-সদস্যরা আচমকা ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্তে রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোর পর তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন ইসরায়েলিদের ‘অভয়’ দিতে ‘ইস্পাতকঠিন’ বন্ধুত্বের বাণী শুনিয়েছিলেন।
এরপর সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাতে শুরু করে।
এমন অমানবিক পরিস্থিতিতেও বিশ্ববিবেকের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েলের পাশে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ হিসেবে বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব ‘ইস্পাতকঠিন’। কোনো পরিস্থিতিতেই তা নষ্ট হওয়ার নয়।
এর পরের বছর অর্থাৎ, ২০২৪ সালে মার্কিনিরা ‘যুদ্ধবিরোধী’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচিত করে পাঠায় হোয়াইট হাউসে। ক্ষমতায় এসে তিনিও মিত্র ইসরায়েলকে সব ধরনের সহায়তা দিতে থাকেন।
তিনিও ব্যবহার করেন ‘ইস্পাতকঠিন’ পরিভাষাটি।
গত ২ বছর ধরে ট্রাম্পকে অনুসরণ করে তার অনুগতরাও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বোঝাতে একই পরিভাষা ব্যবহার করে যাচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের অনেকে ইসরায়েলিদের পাশে অবিচল থাকার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে এখনো ক্রমাগত ‘ইস্পাতকঠিন’ পরিভাষাটি ব্যবহার করছেন।
তবে সেই প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে ‘ভাটার টান’।
দেখা যাচ্ছে—আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক রিপাবলিক প্রার্থী ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলনীতির সমালোচনা করছেন।
তাদের কেউ কেউ ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তার কমানোরও ডাক দিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, গত প্রায় ৮০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে যে একাধিপত্য চালিয়ে আসছে তা টিকিয়ে রাখা তেল আবিবের জন্য আর সম্ভব হবে না। এখন পরিবর্তিত বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যে অনেক হিসাব-নিকাশ বদলে যাচ্ছে।
তাদের মতে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি ইসরায়েল আর বেশিদিন দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
বিশেষ করে, ইউরোপ-আমেরিকার জনমানসে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। ইসরায়েলবিরোধী জনসমাবেশগুলোয় এখন ইসরায়েলের অস্তিত্বকেই মুছে দেওয়ার স্লোগান তোলা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের পক্ষে ‘ফ্রম রিভার টু সি’—অর্থাৎ, জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি বিশ্বব্যাপী উচ্চারিত হওয়ায় ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করেন অনেকে।
এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থি রাজনীতিকরা যেভাবে জনসমর্থন পাচ্ছেন তাতে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের ‘ইস্পাতকঠিন’ বন্ধুত্ব কতদিন টিকে থাকে তাই দেখার বিষয়।

