মার্কিন অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যে জাহাজটি জব্দ করেছিল, সেটির ২২ ক্রু সদস্যকে প্রত্যাবাসনের জন্য পাকিস্তানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আল জাজিরার খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেওয়া এক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এমভি তুস্কা জাহাজে থাকা ২২ ক্রু সদস্যকে পাকিস্তানে আনা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তাদের নিজ দেশে পাঠানো হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিদের রোববার রাতে বিমানে করে পাকিস্তানে আনা হয়েছে এবং আজ তাদের ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ইসলামাবাদ আরও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় মেরামতের পর ইরানি জাহাজটিকেও পাকিস্তানি জলসীমায় ফিরিয়ে আনা হবে যাতে সেটি তার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত পাঠানো যায়।
এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের সহায়তায় সমন্বয় করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান এই ধরনের আস্থা তৈরির পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার পাশাপাশি পাকিস্তান সংলাপ ও কূটনীতিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি গতকাল রোববার জানিয়েছিল, জাহাজটি হস্তান্তরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্সকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাবাসনের উদ্দেশ্যে এমভি তুস্কার ২২ ক্রু সদস্যকে পাকিস্তানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও জানান যে, গত সপ্তাহে অন্য ছয় যাত্রীকে ওই অঞ্চলের অন্য একটি দেশে পাঠানো হয়েছিল।
ইরানের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই ছয়জন ছিলেন ক্রুদের পরিবারের সদস্য।
হকিন্স আরও উল্লেখ করেন, গত মাসে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে ইরানি বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজটি জব্দ করা হয়। এখন এটি আগের মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ত ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দরের কাছ থেকে মার্কিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ইরানি শিপিং গ্রুপ আইআরআইএসএলের মালিকানাধীন, যে প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

