দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকদের পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার বিতর্কিত ধারা বাতিল করে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিল উপস্থাপন করেন।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে গত এপ্রিলে পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’-এর ১৮(ক) ধারাটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
বাতিল হতে যাওয়া ওই ধারায় বলা হয়েছিল—একীভূত হওয়াব্যাংকগুলোর সাবেক পরিচালক বা মালিকরা সকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ফান্ডের মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ এককালীন পরিশোধ করে এবং বাকি অংশ ১০ শতাংশ সুদে ২ বছরের মধ্যে পরিশোধের শর্তে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বা মালিকানা ফেরত নিতে পারবেন।
এর আগে, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারি করে। অধ্যাদেশের অধীনে সংকটগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে রাষ্ট্রায়ত্ত শরীয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
তবে, ২০২৬ সালে আইনটি পাস করার সময় ১৮(ক) ধারাটি বহাল রাখায় বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এটাকে শিথিল শর্তে সাবেক মালিকদের পুনরায় ব্যাংক দখলের আইনি ফাঁকফোকর হিসেবে চিহ্নিত করেন।
নতুন সংশোধনী বিলটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ নিয়ে বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ওই ধারার পূর্ণ শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বাতিল করা সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত।

