বরগুনার সদর উপজেলায় মাদক চোরাকারবারিতে বাধা দেওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের এক প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পিটুনিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন তার এক সহযোগী।
সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চামিলি বাজার এলাকায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক চোরাকারবারিসহ ১৩ থেকে ১৪টি মামলা রয়েছে।
আহত গোলাম মোস্তফা বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে কালু বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় গোলাম মোস্তফার সঙ্গে বাহিনীটির বিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল বিকেলে কালুসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গোলাম মোস্তফাকে গুরুতর জখম করে। আহত মোস্তফাকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কালু ও তার সহযোগী তাওহীদকে পিটুনি দেয়।
ওসি আব্দুল আলীম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত তাওহীদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেসময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি ডাকাতি মামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। কয়েকদিন আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

