রাজধানীতে মনোরেল চালু করতে ৬ মাস মেয়াদি প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ সদরদপ্তরে সই করা এ চুক্তিতে বলা হয়, সমীক্ষার মাধ্যমে দুটি রুটকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান এবং বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ চুক্তিতে সই করেন।
ডিটিসিএ জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী সমীক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিপূরক ও ফিডার সার্ভিস হিসেবে মনোরেল কীভাবে কাজ করতে পারে তা খতিয়ে দেখা হবে।
সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (ইউআরএসটিপি) অধীনে প্রস্তাবিত মনোরেলের ৫টি রুট এবং অন্যান্য সম্ভাব্য রুটগুলো এই সমীক্ষায় মূল্যায়ন করা হবে। এরপর দুটি অগ্রাধিকার করিডোর বাছাইয়ের আগে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন পরিচালনা করা হবে।
প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত ৫টি করিডর হলো—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা-ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা-ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) ও উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)।
চুক্তি অনুযায়ী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য রুট ও সেগুলোর বিন্যাস বিশ্লেষণ করবে, স্টেশন ও ডিপোর জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করবে, যাত্রী চাহিদার পর্যবেক্ষণ জানাবে এবং কারিগরি ও অবকাঠামোর পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। এছাড়া, অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলকে কীভাবে সমন্বিত করা যায় তাও খতিয়ে দেখা হবে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং যেসব স্থানে রাস্তা কম প্রশস্ত হওয়ায় ভারী অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব এলাকায় মনোরেল বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। সমীক্ষায় কারিগরি উপযুক্ততা, নির্মাণ ও পরিচালনা ব্যয়, যাত্রী পরিবহন ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে।
ডিটিসিএ জানায়, সমীক্ষার এসব তথ্য ভবিষ্যতে পরিবহন পরিকল্পনা, সম্ভাব্য মনোরেল করিডোর নির্বাচন, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

