ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে বহু হতাহতের শঙ্কা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাস ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে এই কম্পন অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, এই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৩০ শতাংশ।

ভূমিকম্পের পর প্রায় ২০টির মতো আফটারশক অনুভূত হয়। সামনে আরও শক্তিশালী আফটারশক হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট কম্পনের পাশাপাশি ভূমিধস এবং লিকুইফ্যাকশনের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। লিকুইফ্যাকশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কম্পনের ফলে মাটির শক্ত ভাব নষ্ট হয়ে আলগা পলিগুলো পানির মতো আচরণ করে, যা বড় বড় ভবন ধসে পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানান, ত্রুজিলো, ইয়ারাকুয়, কারাবোবো, আরাগুয়া, মিরান্ডা, কারাকাস এবং লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। রাজধানীর পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরার মতো এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে কারাকাসের বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ রয়টার্সকে বলেন, আমি বিকট একটি শব্দ শুনতে পাই। ঘরের ভেতর সব জিনিসপত্র পড়ে যাচ্ছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতর থাকা জগগুলোও ছিটকে পড়েছে। আমি জীবনে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাইনি।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভূমিকম্পের তীব্রতায় তার বহুতল ভবনের দেয়ালগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু দেয়াল ভেঙে পড়েছে।

প্রবীণ নাগরিক মারিয়া রোমেরো এই দুর্যোগকে ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি ছিল ১৯৬৭ সালের সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার প্রস্তুতি চলছে, তবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং আফটারশকের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির প্রধান বিমানবন্দরও। দেলসি রদ্রিগেজ জানান, অবকাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে কারাকাসের মাইকেটিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে।

তিনি জানান, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস বাতিল এবং মেট্রো ও ট্রেন চলাচলসহ সব ধরনের অনাবশ্যক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীকে সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি, যার নেতৃত্বে থাকবেন বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল।

Related Articles

Latest Posts