কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করায় ভারতের প্রস্তাবিত বাংলাদেশ সফর নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের পর স্থগিত থাকা এই সফরটি আলোর মুখ দেখতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সেপ্টেম্বরে আয়োজিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত সরকার। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভারত সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দুদেশের মধ্যকার ছয় ম্যাচের সাদা বলের সিরিজটি (তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি) শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী ১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে এই সিরিজটি আয়োজন করতে আগ্রহী। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। গত ১৪ জুলাই বিসিবি তাদের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া (ইওআই) স্থগিত করেছিল, যার নতুন কোনো আপডেট এখনো সামনে আসেনি। তা ছাড়া সফরটি চূড়ান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ভারত সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর।
২০২৪ সালে পূর্বের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিলো। কিন্তু তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতি ছিলো উত্তপ্ত। ভারতীয় দল সিরিজটি তখন স্থগিত করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। ২০২৫ সালে দুই বোর্ডের মধ্যে তৈরি হয় প্রবল টানাপোড়েন। সিরিজটি আরও পিছিয়ে অনিশ্চিত হয়ে যায়। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম সরানোর প্রেক্ষিতে চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ‘নিরাপত্তার কারণ’ দেখিয়ে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশের বদলে বিশ্বকাপ খেলে স্কটল্যান্ড। তৎকালীন ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারের সিদ্ধান্তটি চরম সমালোচিত হয়েছিলো।
এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে থাকা ও বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে থাকা তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছে। বর্তমান বিসিবির কর্মকর্তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন। এই বাস্তবতায় সিরিজটি আলোর মুখ দেখতেও পারে।
তবে ভারত যদি বাংলাদেশে সফরে আসে, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রস্তাবিত ভারত-আফগানিস্তান সিরিজের ওপর। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) ভারতে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ‘হোম’ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার পরিকল্পনা করেছিল। বাংলাদেশ সফর নিশ্চিত হলে আফগানদের এই সিরিজ অন্তত কয়েক দিন হলেও পিছিয়ে দিতে হবে।
অবশ্য সময় পিছিয়ে নেওয়ার সুযোগও খুব সীমিত। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমস এবং ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের খেলা রয়েছে।
এদিকে আফগানিস্তান সিরিজের সম্প্রচার ব্যবস্থা নিয়েও কিছুটা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতে খেলা হলেও এই সিরিজের মূল আয়োজক এসিবি। ফলে ভারতের হোম ম্যাচের নিয়মিত সম্প্রচারক জিওস্টারের পরিবর্তে এটি সম্প্রচার করবে ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল স্বত্ব পেয়েছে ফ্যানকোড, আর টিভি সম্প্রচারের দৌড়ে রয়েছে জি ও সনি স্পোর্টস।
সিরিজটির মিডিয়া স্বত্ব তদারকিকারী সংস্থা আইটিডব্লিউ ইউনিভার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভৈরব শান্ত জানান, ‘অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে খেলা নিয়ে এসিবি ও বিসিসিআইয়ের সমঝোতা হয়েছে। আফগানিস্তান বোর্ড পরিচালনা সংক্রান্ত দিকগুলো দেখবে, আর আমরা মিডিয়া স্বত্ব সামলাচ্ছি।’
আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা ভাবা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত খেলা ভারতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়, অর্থাৎ ভারতের মাটিতেই ভারতকে ‘অতিথি’ বানিয়ে ‘স্বাগতিক’ হিসেবে খেলবে আফগানিস্তান।

