ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যদের ওপর হামলা ও আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত শফিককে (৪০) ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর গতকাল রোববার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গত রোববার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০-এর যৌথ অভিযানে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউলাহাটি এলাকার একটি বাসা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ডাকাত শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নবীনগরের খাগাতুয়া গ্রামে গেলে শফিকের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি র্যাবের চারজন গোয়েন্দা সদস্যের ওপর হামলা চালায়। তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এতে তিন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে অন্য র্যাব সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পর ধারাবাহিক অভিযানে হামলার সঙ্গে জড়িত আরও নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও শফিক এতদিন পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব আরও জানায়, ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের একটি বাড়িতে হামলার পর শফিক ও তার সহযোগীরা স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। র্যাব আসছে খবর পেয়ে তারা গোয়েন্দা সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মারধরের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
র্যাব কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী জানান, শফিকের বিরুদ্ধে নবীনগরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, চুরি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে।
এছাড়া ২০২১ সালে নবীনগরের রতনপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী সহিংসতায় মাসুদ মিয়া নামের একজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গেও শফিক জড়িত বলে দাবি করেছে র্যাব।

