ইরান বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে, এবং তাদের সেই অনুরোধ মেনে আজ দোহায় ওয়াশিংটন-তেহরান বৈঠক হবে। এ কথাটি ‘চিৎকার’ করে বলেছেন ট্রাম্প।
আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।
ইন্টারনেটে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে কোনো কিছু লেখার অর্থ হলো লেখক ‘চিৎকার করে কথা বলছেন’ অথবা বলিষ্ঠভাবে তার মনের ভাব প্রকাশ করছেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়াইয়ার্ড ডট কম-এর একটি প্রতিবেদন মতে, ‘অল ক্যাপস (বড় হাতের অক্ষরে লেখা) লেখা ইন্টারনেটে অশিষ্ট আচরণ বা দুর্বল ‘নেটিকেট’ হিসেবে বিবেচিত।
উল্লেখ্য, বার্তায় একটা বা দুইটা শব্দ বড় হাতের অক্ষরে লিখে সেগুলোতে ‘জোর’ দেওয়া খারাপ কিছু নয়। তবে পুরো বাক্য অল ক্যাপসে লেখা হলে তা চূড়ান্ত অভদ্রতা হিসেবেই বিবেচিত।
তবে এ বিষয়টির একেবারেই ধার ধারেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে ২০২১ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক্স অ্যাকাউন্ট (তৎকালীন টুইটার) নিষিদ্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে নিজেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে বসেছিলেন ট্রাম্প—নাম দেন ‘ট্রুথ সোশাল’।
ধনকুবের ইলন মাস্ক টুইটার কিনে নেওয়ার পর তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের এক্স অ্যাকাউন্টের ব্যান উঠিয়ে দেওয়া হয়।
তা সত্ত্বেও বর্তমানে ট্রুথ সোশালেই বেশি সরব ট্রাম্প। প্রায় প্রতিদিনই বেশ কয়েকবার সেখানে পোস্ট করেন এই নেতা। কখনো কখনো একই কনটেন্ট একাধিকবার পোস্ট করতেও দেখা যায়।
সোমবার সেই ট্রুথ সোশালে ‘অল ক্যাপস’ ব্যবহার করে সংক্ষিপ্ত বার্তা দেন ট্রাম্প। জানান, ইরান বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) দোহায় সেই বৈঠকের আয়োজন হতে যাচ্ছে।
নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট ডিজেটি’ আখ্যা দিয়ে বার্তা শেষ করেন তিনি। বলাই বাহুল্য, ডিজেটি অর্থ ডোনাল্ড জন ট্রাম্প।
কিন্তু মজার বিষয় হলো, তেহরান এই দাবি নাকচ করেছে। জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই।
এর আগেও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটন-তেহরান উভয়ই জানিয়েছে, তারা দোহায় প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে। তবে কবে, কখন এবং কী কারণে, সে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্দেশে দুই দেশ একটি প্রাক-চুক্তিতে সই করেছে। কিন্তু সেই চুক্তি চূড়ান্ত ও স্থায়ী হওয়ার আগে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো বিষয়টি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এরপর ট্রাম্প আবার জানান, দুই দেশ ‘সংঘাত বন্ধে’ সম্মতি দিয়েছে।
সোমবার (এই প্রতিবেদন লেখার সময়কাল থেকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আগে) ট্রাম্প ওই পোস্ট দেওয়ার পর তার মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানান, এ সপ্তাহে ‘উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য’ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার দোহায় যাবেন।
মঙ্গলবার সকালে সিএনএন নিশ্চিত করেছে, কাতারের পথে রওনা হয়েছেন উইটকফ।
অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার জানান, তাদের দেশের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহে দোহা যাবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের বিষ্যটি কড়া ভাষায় নাকচ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে দরকষাকষিতে বসার মতো অবস্থায় পৌঁছাইনি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্টের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।’

