বিশ্বে খুব কম দলই পাবেন যারা এত অভিজ্ঞ: আশরাফুল

২০০৩ সালে বাংলাদেশ যখন সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়েছিল, তখন খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তবে এবারের সিরিজে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দায়িত্বে— ব্যাটিং কোচ হিসেবে বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে আছেন। ডারউইন টেস্টে চার দিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের বিশাল জয়ের পর দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সামসুল আরেফীন খানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আশরাফুল।

দলের সার্বিক পারফরম্যান্স, খারাপ প্রস্তুতির পরও কীভাবে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফেরানো হলো এবং এই ঐতিহাসিক জয়ের নানা দিক উঠে এসেছে তার কথায়। সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ নিচে দেওয়া হলো:

দ্য ডেইলি স্টার (ডিএস): এমন একটা ফলাফল কতটা প্রত্যাশিত ছিল?

আশরাফুল: বিশ্বাস ছিল। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে ওরকম ফলাফলের পর তো আসলে কঠিনও ছিল। টস হারার পরে যখন আগে বোলিং পেয়েছিলাম, তখন আমার মধ্যে একটা আলাদা বিশ্বাস এসেছিল। আর আমাদের বোলাররা অসাধারণ বল করেছে। খেলোয়াড়রা যেভাবে আধিপত্য দেখিয়েছে, ওদেরই পুরো কৃতিত্ব প্রাপ্য।

ডিএস: আপনি বহু বছর ধরে বিভিন্ন দায়িত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশ এর আগে কখনো এত ভালোভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছে?

আশরাফুল: এটা অবশ্যই বাংলাদেশের সেরা পারফরম্যান্স বলতে হবে। কারণ, এরকম একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে আসলে আমরা কখনোই খেলিনি। ১১টা সেশনই আমরা জিতেছি। অসাধারণ, অসাধারণ টেস্ট।

ডিএস: এই টেস্টের জন্য আমাদের প্রস্তুতি খুব একটা ভালো ছিল না। এর আগে আমরা জিম্বাবুয়ের কাছে টেস্ট হেরেছি। ডারউইন টেস্টের আগে নাহিদ রানার মতো একজন বোলারকে চোটের কারণে হারিয়েছি, শরিফুল ইসলামও প্রথম টেস্টে খেলেননি। আর প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। এরপরও দলের ভেতরে এমন পারফর্ম করার আত্মবিশ্বাস কীভাবে তৈরি হলো?

আশরাফুল: হ্যাঁ, আমরা জিম্বাবুয়েতে গিয়ে হেরেছি। কিন্তু তার আগেও আবার যদি দেখেন, আমাদের টেস্ট রেকর্ড কিন্তু অসাধারণ। বাংলাদেশ দল প্রথমবারের মতো টানা চারটি টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল। তো অস্ট্রেলিয়ায় আগেভাগে এসে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া… প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ভালো করিনি দ্বিতীয় ইনিংসে। কিন্তু খারাপ হওয়ার পরেও খেলোয়াড়রা প্রস্তুতিটা জারি রেখেছিল। আমি বলব, আমাদের প্রস্তুতি ছিল অসাধারণ।

ডিএস: ২০০৩ সালে আপনি একজন খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিলেন এবং ডারউইনে টেস্ট খেলেছিলেন। ২৩ বছর পর একই জায়গায় ফিরে বাংলাদেশের সেই দল আর বর্তমান দলের মধ্যে আপনি কীভাবে তুলনা করবেন?

আশরাফুল: পার্থক্য বলতে… আমি এখানে আসার আগেও বলেছি,  যদি এই টেস্ট দলটার কথা চিন্তা করেন, বিশ্বে খুব কম দলই পাবেন যারা এত অভিজ্ঞ। বাংলাদেশের এবারের দলে যে ১১ জন ছিল, তারা ৬০, ৮০ এমনকি ১০০ টেস্টও খেলেছে। তো আমরা যখন খেলছি, আমাদের ম্যাচের সংখ্যা ছিল কয়টা? মাত্র দুই তিন-বছরের অভিজ্ঞতা ছিল। আর এখনকার দলে বেশিরভাগ খেলোয়াড়েরই ১০-১২ বছরের অভিজ্ঞতা। এমনকি ১৫ বছর বা ২১ বছর খেলার অভিজ্ঞতাও আছে।

আর অবশ্যই অস্ট্রেলিয়া অসাধারণ দল। কিন্তু ওদের থেকে আমরাও কম ছিলাম না। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাই মনে করি। ডারউইনের কন্ডিশনটা বেশ বাংলাদেশের মতো। উইকেট প্রথম তিন-চার ঘন্টায় কঠিন ছিল। যেহেতু আমরা টস হারার পরেও বোলিং পেয়েছি, এটা একটা সুবিধা ছিল এবং তা কাজে লাগিয়ে আমরা ভালো করেছি।

ডিএস: অস্ট্রেলিয়া খারাপ খেলেছে নাকি বাংলাদেশই তাদেরকে সবদিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে? আপনার কী মতামত?

আশরাফুল: এটা পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়া। আর কেবল আমি না, (স্টিভেন) স্মিথই বলেছে, বাংলাদেশ তাদেরকে ধরাশায়ী করেছে। কয়েকটা ফিফটি-ফিফটি মনে হলেও আমরা প্রত্যেকটা সেশনই জিতেছি।

ডিএস: ব্যাটিং কোচ হিসেবে আপনার শিষ্যদের পারফরম্যান্স দেখে আপনি কতটা সন্তুষ্ট? কারণ প্রত্যেকেই অবদান রেখেছে। যে-ই সুযোগ পেয়েছে, নিজের মতো করে দলের জন্য কিছু করেছে।

আশরাফুল: প্রতিদিনই আমার ম্যাথু হেইডেন, রিকি পন্টিং, সাইমন ক্যাটিচ, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের সাথে কথা হয়েছে। ওরা খুব মুগ্ধ হয়েছে আমাদের ব্যাটারদের নিয়ে। আমাদের ব্যাটাররা যেভাবে প্রতিটি বল মোকাবিলা করেছে বা ছেড়ে দিয়েছে, কাউকে উইকেট উপহার দেয়নি— এটা অসাধারণ লেগেছে। সবাই তাদের উইকেটকে মূল্যবান মনে করেছে।

ডিএস: দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে কী ভাবছেন? আমরা কি ২-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারব? দলের মধ্যে কি সেই আত্মবিশ্বাস আছে?

আশরাফুল: অবশ্যই, এই ম্যাচ জেতার পর খেলোয়াড়রা সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের মধ্যে তৈরি করেছে। আমরা ২-০ ব্যবধানেই জিতে আসতে চাই।

Related Articles

Latest Posts