ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয় স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী দলের মিডফিল্ডকে। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেতস, আলোনসোদের সেই মধ্যমাঠই স্প্যানিশ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। তবে বর্তমান স্পেন দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাস, তার হাতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের মিডফিল্ডও সেই উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, এমনকি বিশ্বের সেরার দাবিদারও তারাই।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ২০১০ সালের স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করতে বলা হলে দে লা ফুয়েন্তে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই নিজের মত তুলে ধরেন।
বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা দুটোই অসাধারণ মিডফিল্ড। আমার মতে, এবং আমি সবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই বলছি, আমাদেরই বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড আছে।’
বর্তমান স্প্যানিশ দলে মিডফিল্ডের গভীরতা ও মান নিয়ে গর্বিত দে লা ফুয়েন্তে একে একে উল্লেখ করেন রদ্রি, মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইস, পেদ্রি, দানি ওলমো, মিকেল মেরিনো, আলেক্স বায়েনা, গাভি ও ফারমিন লোপেজের মতো ফুটবলারদের নাম। যদিও লোপেজ চোটের কারণে নেই এই বিশ্বকাপে।
তবে প্রতিটি পজিশনে হাতে অন্তত দুটি করে বিশ্বমানের বিকল্প রয়েছে দাবি করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রতিটি পজিশনের জন্য আমাদের কাছে দুজন করে সেরা খেলোয়াড় আছে। আমি নাম বলতে পারি। রদ্রি, জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান, পেদ্রি, ওলমো, মেরিনো, বায়েনা, গাভি, ফারমিন… আরও অনেকেই আছে। হয়তো কাউকে বাদ দিয়ে ফেলেছি, সে রাগ করতে পারে।’
তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের মিডফিল্ডের কৃতিত্বও অস্বীকার করেননি তিনি। সেই দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ওটাও ছিল অসাধারণ একটি মিডফিল্ড, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফুটবল বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু আমি আমাদের প্রায় একই স্তরে রাখব।’
বর্তমান স্পেন দলের সবচেয়ে আলোচিত মিডফিল্ডার পেদ্রির প্রশংসাও করেছেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘সে একজন জাদুকর। প্রতিভা আর টেকনিকের প্রকৃত সংজ্ঞা হলো, সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোকে এমনভাবে করা, যেন সেগুলো খুব সহজ। পেদ্রি ঠিক সেটাই করে। সে এমন সব পাস দেখতে পায়, যা আমরা বাকিরা দেখতে পাই না। এটা প্রতিভাবানদের বিশেষ ক্ষমতা।’

