বিশ্বের সামনে মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকা তুলে ধরা আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য সব ছবি তুলে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা প্রখ্যাত ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, আজ রোববার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির লোধি রোড শ্মশানে রঘু রাইয়ের শেষকৃত্য হবে।

রঘু রাই ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, মৃত্যুর আগে তিনি নয়াদিল্লিতে বসবাস করছিলেন এবং নিজের ৫৭তম বই নিয়ে কাজ করছিলেন। তার মৃত্যুতে আলোকচিত্র জগতে এক যুগের অবসান ঘটল।

বাংলাদেশের বন্ধু

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখো বাংলাদেশি শরণার্থীর চরম মানবিক সংকটের দৃশ্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরাই উঠে এসেছিল। তার তোলা মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্ত সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক নাড়া দেয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের নিয়ে অসামান্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে।

১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করা রঘু রাই পেশায় একজন পুরকৌশলী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) হলেও মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের হাত ধরে আলোকচিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেন। এরপর কলকাতার সাপ্তাহিক ‘সানডে’ ম্যাগাজিনের পিকচার এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রঘু রাই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফটোগ্রাফিক সমবায় ‘ম্যাগনাম ফটোজ’-এর সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ভারতের শীর্ষস্থানীয় নিউজ ম্যাগাজিন ‘ইন্ডিয়া টুডে’র পিকচার এডিটর হিসেবে কাজ করেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, দলাই লামা, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়দের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জীবন তার ক্যামেরাতেই দারুণভাবে মূর্ত হয়েছিল।

রঘু রায়ের তোলা ছবি টাইম, লাইফ, জিও, লে ফিগারো, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজউইক, দ্য নিউইয়র্কার, ভোগের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সব পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts