বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার জেরে মিয়ানমারের মান্দালয় বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট সংখ্যার দিক দিয়ে এটি দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।
আজ শুক্রবার থেকে বিমানবন্দরটি দুই দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
মিয়ানমারের কেন্দ্রে অবস্থিত মান্দালয় বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বেসামরিক মানুষকে বিমান হামলার বিষয়ে সতর্ক করে এমন কয়েকটি সংগঠনের দাবি, ওই বিমানবন্দরের রানওয়েতে প্রায়ই যুদ্ধবিমান দেখা যায়।
অনেক ক্ষেত্রেই এখান থেকে সরকার বিমান হামলার সূত্রপাত ঘটায়, এমন দাবিও করেছে সংস্থাগুলো।
সামরিক বাহিনী-সমর্থিত সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ছয়টি ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ বিমানবন্দরটিতে হামলা চালায়।
এতে কেউ হতাহত না হলেও ফ্লাইট চলাচলের সময়সূচি ব্যাহত হয়েছে।
তবে শুক্রবার এক নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে বলেন, ‘মান্দালয় বিমানবন্দর আজ ও আগামীকাল বন্ধ থাকবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র বলেন, ‘বিমানবন্দর ভবন থেকে কিছুটা দূরে হামলাটি হয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে।’
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।
মিয়ানমারের অন্য একটি বিমানবন্দরে কর্মরত দ্বিতীয় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রোববার পর্যন্ত মান্দালয় বিমানবন্দর ‘রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ’ থাকবে।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী।
এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে এক দশক ধরে চলা গণতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে। শুরু হয় গৃহযুদ্ধ।
পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের পর এখন সামরিক বাহিনী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে।
মিয়ানমারের উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ড ইতোমধ্যে বিদ্রোহীদের দখলে আছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোও নিয়মিত হামলার মুখে পড়ে। তবে এ ধরনের হামলার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি বা মন্তব্য পাওয়া বিরল।
মিয়ানমারের বড় শহরগুলোর কোনো একটিতে বিদ্রোহীদের হামলা স্বীকার করে নেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। এসব শহর সাধারণত সামরিক বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
তবে বৃহস্পতিবারের ওই ড্রোন হামলার পর সেই বিরল ঘটনাই ঘটল।
অভ্যুত্থানের পর অস্ত্র তুলে নেওয়া গণতন্ত্রপন্থি গেরিলাদের ওপর হামলার দায় চাপিয়েছে সরকার।
ওই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনটি ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস’ (পিডিএফ) নামে পরিচিত।
সরকারের বিবৃতিমতে, মান্দালয় বিমানবন্দর শুধু জনপরিবহনে ব্যবহার হয়।
এটি একটি ‘অসামরিক স্থাপনা’, দাবি করে সরকার।
হামলার স্থানটি বেসামরিক নাকি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি। তবে এএফপির সাংবাদিকরা অতীতে মান্দালয় বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন।
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনী উভয়েই ড্রোন ব্যবহার করছে। কয়েকটি পর্যবেক্ষক সংস্থার হিসাবে, এই যুদ্ধে ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে চীন ও রাশিয়ায় তৈরি যুদ্ধবিমানসমৃদ্ধ সরকারি বিমানবাহিনী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন।
মিয়ানমারের বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে স্কুল, বৌদ্ধ মঠ ও জনসমাগমপূর্ণ উৎসবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও রয়েছে।
এসব হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

