বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক ব্যর্থ: পঞ্চগড় সীমান্তে ৩ দিন ধরে আটকে নারী-শিশুসহ ১০ জন

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় গত তিন দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন নারী ও শিশুসহ ১০ জন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে। 

এ ঘটনায় দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে আরও ১৬ জন একইভাবে সীমান্তের শূন্যরেখায় দিন কাটাচ্ছেন। ওইসব জায়গাতেও বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করে বিজিবি।

আজ রোববার বিকেলে পঞ্চগড় সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শূন্যরেখার কাছে ফসলি জমির সরু পথে ১০ জন অবস্থান করছেন। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানির মধ্যেই তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। 

সীমান্তের এক পাশে অবস্থান নিয়েছে বিজিবি, অন্য পাশে বিএসএফ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোরে বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে পাঁচ পুরুষ, দুই নারী ও তিন শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। 

তবে তাদের পরিচয় যাচাই না হওয়ায় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বিজিবি তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। এরপর থেকে তারা দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর শনিবার দুপুরে বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার বিজিবির বড়বাড়ি বিওপি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়। তবে কোনো বৈঠকেই সমাধান আসেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির মধ্যেও তারা খোলা আকাশের নিচেই ছিলেন।

বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. আনসার আলী বলেন, ‘তিন দিন ধরে ছোট ছোট বাচ্চাসহ মানুষগুলো যে কষ্টে আছে, তা দেখে খারাপ লাগছে। এই গরমে ছায়াতেও থাকা কঠিন, সেখানে পানির মধ্যে বসে তারা কীভাবে দিন কাটাচ্ছে, সেটাই ভাবছি।’

দক্ষিণ প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওখানে থাকা শিশুদের অবস্থা দেখে খারাপ লাগে। খাবার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়া তারা কতক্ষণ থাকতে পারবে? আমরা চাই দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির সমাধান করুক।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম রোববার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিএসএফকে ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তবে তারা তা গ্রহণ করেনি। বিজিবিও তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে না বলে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’ 

এদিকে শনিবার ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ আরও ১১ জন এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ।

পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় তাদেরও বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি।

Related Articles

Latest Posts